‘যাঁরা বিজেপিকে ভোট দেন না বেছে বেছে তাঁদেরই নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে’, এসআইআর: ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ অভিষেকের
বর্তমান | ০২ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: টার্গেট একেবারে স্পষ্ট। সংখ্যালঘু, তফসিলি জাতি, উপজাতি, আদিবাসী সমাজের বড়ো অংশের ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করেছে বিজেপি। সরাসরি এই অভিযোগ আনলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানে তাঁর যুক্তি, যাঁরা বিজেপিকে ভোট দেন না, তাঁদেরই নাম বেছে বেছে বাদ দেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, নিজের বক্তব্যের সপক্ষে তথ্য হাজির করেছেন তৃণমূল সেপাপতি। যেখানে তিনি দেখিয়েছেন কোনো বিধানসভা আসনে বিজেপি গতবার যা ভোট পেয়েছে, তার কয়েকগুণ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। আরো তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, শনিবার তালিকা প্রকাশের পর রবিবার সকাল পর্যন্ত একডাকে অভিষেকের নম্বরে ২৪৩ জন ফোন করেছেন। তাঁরা বাস্তবে ‘জীবিত’ হলেও কমিশনের তালিকায় ‘মৃত’ চিহ্নিত হয়েছেন! এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অভিষেক। তাঁদের পাশে থাকা, নিজে খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন অভিষেক।
রবিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে দাঁড়িপাল্লার দুদিকে বসিয়ে আক্রমণ শানান তৃণমূল সেনাপতি। তথ্য তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেছেন, বিজেপির কথা মতো কমিশন কীভাবে নাম বাদের খেলায় নেমেছে। অভিষেকের দেওয়া তথ্য: মালদহে ২৯ লক্ষ ভোটার রয়েছনে। সেখানে ‘বিচারাধীন’ রাখা হয়েছে সাড়ে আট লক্ষ ভোটারকে। আবার মুর্শিদাবাদ জেলায় ৫৪ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ১১ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকায় বিচারাধীন রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় রাজ্যের সবথেকে বেশি বিধানসভা আসন। এই দুটি জেলাতেও ছয় লক্ষ ও সাড়ে পাঁচ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকায় বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে।
বিজেপি কীভাবে কমিশনকে কাজে লাগিয়ে ভোটার তালিকায় কারসাজি করছে, সেই অভিযোগ তুলেও বেশকিছু তথ্য সামনে এনেছেন তৃণমূল সেনাপতি।
অভিষেক বলেছেন, মালদহের সুজাপুর আসনে বিজেপি ভোট পেয়েছিল ১৮ হাজার। সেখানে ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ভোটারের নাম তালিকায় বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, এই বিধানসভার মানুষ তাহলে কি ভোট দেবেন না? অভিষেকের আরো তথ্য, রতুয়া বিধানসভায় বিজেপি ভোট পেয়েছিল ৫৭ হাজার। সেখানে ১ লক্ষ ৪ হাজার মানুষের নাম বিচারাধীন। এছাড়াও মালদহ জেলার মালতিপুর, হরিশচন্দ্রপুর, মোথাবাড়িসহ কয়েকটি আসনে বিজেপি প্রাপ্ত ভোটের সঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম বাদের কত ফারাক তা তথ্যসহ হাজির করেছেন তিনি। একইভাবে অভিষেক দেখিয়েছেন, মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাগঞ্জ বিধানসভা আসনে বিজেপি ভোট পেয়েছিল ২৭ হাজার। সেখানে ১ লক্ষ ১৫ হাজার মানুষের নাম বিচারাধীন। ভগবানগোলা, সামসেরগঞ্জ, সুতি, লাগগোলাসহ কয়েকটি আসনেও একই চিত্র।
সব মিলিয়ে ৬০ লক্ষ মানুষের ভোট ভাগ্য ঝুলে রয়েছে। যাঁরা দেশের নাগরিক, এর আগে ভোট দিয়েছেন, কেন তাঁদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, সেই প্রশ্নটা তুলে দিয়েছেন তিনি। গোটা বিষয়টি তথ্যসহ সুপ্রিম কোর্টে হাজির করবেন বলেও জানান। এমনকি কমিশনের ১৯ জানুয়ারির বয়ানের সঙ্গে ১ মার্চের পরিসংখ্যানে যে বিস্তর গন্ডগোল হয়েছে। সেই তথ্যও তিনি দেখিয়েছেন। কী করে রাতারাতি ৬০ লক্ষ মানুষকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হল, সেটা প্রশ্ন তাঁর। একইসঙ্গে অভিষেকের আশঙ্কা, ভোটার তলিকায় চুরি হচ্ছে। বিজেপি চায় না নির্বাচন হোক। তাহলে ওরা ভোকাট্টা হয়ে যাবে। তাই ভোট পিছোতে চায় ওরা। বাংলাকে রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকেই নিয়ে যেতে চায় বিজেপি। যে ৬০ লক্ষ মানুষের নাম বিচারধীন রয়েছে, তার বিচার করতে কমপক্ষে চারমাস লেগে যাবে।