ভোটার তালিকা থেকে মতুয়াদের নাম বাদ যাওয়া দুর্ভাগ্যজনক: শান্তনু ঠাকুর
বর্তমান | ০২ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ভোটার তালিকা থেকে মতুয়াদের নাম বাদ দেওয়ায় উঠছে ভূরি ভূরি প্রশ্ন। বিধানসভা ভোটের ময়দানে যা সামাল দিতে গিয়ে কার্যত জেরবার পদ্ম শিবিরের নেতারা। তাঁদের একাংশ এ ব্যাপারে সরাসরি দুঃখপ্রকাশ করছেন। রবিবার ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির জাবরাভিটায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মতুয়া মহাসংঘের নেতা ও কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা থেকে মতুয়াদের নাম বাদ যাওয়া দুর্ভাগ্যজনক। বিষয়টি নির্বাচন কমিশন কীভাবে করেছে, তা জানি না। তবে কাউকে বাংলাদেশে পাঠাবে না কেন্দ্রীয় সরকার। সিএএ’র মাধ্যমে সকলেই নাগরিকত্ব পাবেন।
দক্ষিণবঙ্গের মতো উত্তরবঙ্গেও ছড়িয়ে রয়েছে মতুয়া সম্প্রদায়। এবার প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে মতুয়া ও নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষের নাম কাটা গিয়েছে। ভোটার তালিকা প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের একাংশের অভিযোগ, বাংলার মাটিতে খাল কেটে কার্যত কুমির ডেকে আনা হয়েছে। অর্থাৎ বিজেপিকে ভোট দেওয়া ঠিক হয়নি। ওরা এসআইআরের মাধ্যমে মতুয়াদের ফের উদ্বাস্তু করতে চাইছে।
এমন প্রেক্ষাপটে এদিন শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে জাবরাভিটায় সভা করেছে সারা ভারত মতুয়া মহাসংঘের জলপাইগুড়ি জেলা কমিটি। সেখানে আসেন সংঘের অন্যতম নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সভার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এসআইআর নিজেদের মতো করে করেছে। সেজন্যই এটা হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে মতুয়াদের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক। তবে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত যাঁরা এদেশে এসেছেন, তাঁদেরকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। কাজেই নমঃশূদ্র, উদ্বাস্তু, মতুয়াদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তাঁদের সকলকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তাঁরা এখানেই থাকবেন। তাঁরা ভোটও দেবেন।
ভোটার তালিকা প্রকাশ হতেই বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, বাংলা দখল নিতেই এমন ষড়যন্ত্র করেছে বিজেপি। যদিও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর জবাব, নির্বাচন কমিশন এসআইআর করেছে। তারা স্বাধীন এজেন্সি। তাদের সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। কাজেই, সবেতেই বিজেপি ভূত দেখছে তৃণমূল। এবারের নির্বাচন ওদের কাছে কঠিন লড়াই। তাই এসআইআর নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে হাওয়া গরম করে মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে রাজ্যের শাসক দল।