• বৃত্তিমূলক বিষয়ের বই ছাড়াই পরীক্ষা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের
    আনন্দবাজার | ০২ মার্চ ২০২৬
  • বৃত্তিমূলক বিষয় নিয়ে পড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীরা এ বারও পরীক্ষা দিল বই ছাড়াই। বৃত্তিমূলক বিষয়ের শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ১৬টি বিষয় রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে ঐচ্ছিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ‘কম্পালসরি ইলেক্টিভ’ হিসেবে বিষয়গুলি নিতে হয়। ওই শিক্ষকদের অভিযোগ, বৃত্তিমূলক শিক্ষা কারিগরি শিক্ষা দফতরের অধীনে। পড়ুয়াদের জন্য বই চেয়ে ওই দফতরে বার বার স্মারকলিপি দিয়েও লাভ হয়নি। বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে রাজ্যের শিক্ষা দফতরের অধীনে আনা, বেতন কাঠামো চালু, পড়ুয়াদের বইপত্র ঠিক ভাবে দেওয়া-সহ একাধিক দাবিতে তাঁরা আজ, সোমবার বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছেন।

    বৃত্তিমূলক ১৬টি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে হেল্থকেয়ার, অটোমোবাইল, ইলেক্ট্রনিক্স, টুরিজ়ম অ্যান্ড হসপিটালিটি, ফুড প্রসেসিং, টেলিকমের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, জাতীয় শিক্ষানীতি থেকে শুরু করে রাজ্যের শিক্ষানীতি— সব ক্ষেত্রেই বৃত্তিমূলক শিক্ষার উপরে বেশি করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অথচ, এই বিষয়গুলির একটি বইও মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে নেই। বৃত্তিমূলক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংগঠন ‘ইউনাইটেড ডব্লিউবি এনএসকিউএফ ভোকেশনাল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর তরফে শ্রেয়া চৌধুরী বললেন, ‘‘কারিগরি শিক্ষা দফতর শুধু পাঠ্যক্রম তৈরি করে দিয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বৃত্তিমূলক শিক্ষার বই বাজারেও পাওয়া যায় না। পরীক্ষার্থীদের আমরা নোটস তৈরি করে দিই। সেই নোটস পড়েই ওরা পরীক্ষা দেয়। কিন্তু এ ভাবে কত দিন? এই সব বিষয়ের জন্য কোনও ল্যাবরেটরিও নেই। বৃত্তিমূলক শিক্ষার বই থেকে শুরু করে ল্যাবরেটরির জন্য যে বরাদ্দ আসে, সেই টাকা খরচ করা হচ্ছে না কেন?’’

    শ্রেয়া জানাচ্ছেন, বর্তমানে রাজ্য জুড়ে ১৭০০টি মতো স্কুলে বৃত্তিমূলক বিষয় পড়ানো হয়। প্রায় ৩২০০ জন চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ও শিক্ষিকা রয়েছেন। আগে বৃত্তিমূলক শিক্ষা ছিল শিক্ষা দফতরের অধীনে। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে সেটি কারিগরি শিক্ষা দফতরের অধীনে চলে আসে। শিক্ষকদের অভিযোগ, ‘‘বৃত্তিমূলক পাঠ্যক্রমে আগে ছিল ১৩টি বিষয়। এখন টেলিকম, ব্যাঙ্কিং অ্যান্ড ফিনান্স এবং পাওয়ার — এই তিনটি বিষয় যোগ হওয়ার পরে সেই সংখ্যা ১৬ হয়েছে।’’ বৃত্তিমূলক বিষয় নিয়ে পড়া এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী দিশা শীল বলল, ‘‘মাধ্যমিকে আমার বৃত্তিমূলক ঐচ্ছিক বিষয় ছিল ইলেক্ট্রনিক্স। ওই বিষয়ের কোনও বই পাইনি। শিক্ষকেরা যে নোটস দিয়েছেন, শুধু তা-ই পড়তে হয়েছে। আমাদের কোনও ল্যাবরেটরিও নেই।’’

    উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সদ্য-প্রাক্তন সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘ওদের এ বার বই ছাড়াই পরীক্ষা দিতে হয়েছে। বৃত্তিমূলক প্রতিটি বিষয়ের বই এবং নোটসের বই প্রকাশ করা নিয়ে কারিগরি শিক্ষা দফতরের সঙ্গে একাধিক বার কথা হয়েছে। কিন্তু সদুত্তর মেলেনি।’’ তিনি জানান, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বৃত্তিমূলক বিষয়ের পড়ুয়ার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ২০২৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে যেখানে ২০ হাজারের মতো পড়ুয়া ছিল, চলতি বছরে সেই সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘কারিগরি শিক্ষা দফতরের অধীনে মাধ্যমিক স্তরে বৃত্তিমূলক বিষয়গুলি পড়ানো হয়। ওদের বই আছে কিনা, সেটা ওই দফতরই বলতে পারবে।’’

    বই কেন নেই, তা জানতে কারিগরি শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। উত্তর দেননি মেসেজের।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)