• বুদ্ধ-স্মরণে জহর-অনিতাদের তোপে দুর্নীতি, মেয়েদের হাল
    আনন্দবাজার | ০২ মার্চ ২০২৬
  • আসন্ন বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে রাজ্যে ‘দুর্নীতির বাড়বাড়ন্ত’ বন্ধের ডাক দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ তথা প্রাক্তন আমলা জহর সরকার। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রমোদ দাশগুপ্ত ট্রাস্ট আয়োজিত এক আলোচনাসভায় যোগ দিয়ে ওই মন্তব্য করেছেন জহর। বামেদের মঞ্চে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদের উপস্থিতি নানা জল্পনারও জন্ম দিয়েছে। তবে জহর আগেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তিনি কোনও দলে যোগ দিচ্ছেন না। স্বৈরাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে চাইছেন।

    আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোডে আয়োজিত ‘বাংলার পুনরুত্থান এবং বিকল্পের ভাবনা’ শীর্ষক সভায় যোগ দিয়ে রাজ্যে ‘সর্বব্যাপী দুর্নীতি’র অভিযোগ তুলেছেন জহর। এই সূত্রেই তাঁর সংযোজন, “দাগি দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের মুখ্যসচিব করা হচ্ছে। কারও নাম করছি না। পঞ্চায়েতে সর্বত্র টাকা পড়ে। কাজ কী হচ্ছে জানি না। কিন্তু প্রতিটি জায়গায় বড় গাড়ি, বাড়ি।” একশো দিনের প্রকল্পে রাজ্যে ভুয়ো জব কার্ডের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, “রাজ্যে বহু সৎ আধিকারিক থাকলেও তাঁদের মনোবল হারিয়ে গিয়েছে।” এই সূত্রেই তিনি সুব্রত গুপ্তের কথা বলেছেন, যিনি বর্তমানে এসআইআর-প্রক্রিয়ায় রাজ্যের বিশেষ তালিকা-পর্যবেক্ষক। জহরের দাবি, “এমন মেধাবী আধিকারিক খুব কম দেখেছি। শেষ পাঁচ বছর তাঁকে নবান্নের ধারেকাছে ঘেঁষতে দেয়নি। আবার দিল্লিতেও ছাড়েনি। এই না-ছাড়ার জন্য প্রবণতার জন্য, দিল্লিতে আমাদের হয়ে কেউ বলার মতো থাকেন না। আর পশ্চিমবঙ্গ থেকে দিল্লিতে যাঁরা মন্ত্রী হয়েছেন, তাঁর সবাই হাফ-মন্ত্রী!” আসন্ন ভোটে তাঁর ‘পরামর্শ’, “কী ভাবে সম্ভব জানি না, কিন্তু কোনও ভাবে প্রতিটি কেন্দ্রে সব মিলিয়ে এক জন করে (বিরোধী) প্রার্থী থাকা দরকার। তাঁদের উদ্দেশ্য হবে, দুর্নীতি বন্ধ করা। তবে দেখতে হবে সাম্প্রদায়িক শক্তি যাতে ঢুকতে না-পারে।”

    সভা থেকে রাজ্যের আর্থিক অবস্থা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন অর্থনীতিবিদ রতন খাসনবিশ। তিনি বলেছেন, “মাথা পিছু বার্ষিক আয়ের নিরিখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে পশ্চিমবঙ্গ এখন ওড়িশার তলায়। ওড়িশায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৬৭৬ টাকা। পশ্চিমবঙ্গে ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৪৪২ টাকা। অথচ শুনবেন, বাংলা এগিয়ে!” প্রাক্তন আমলা তথা সাহিত্যিক অনিতা অগ্নিহোত্রী বলেছেন, ‘‘বাংলা নিজের মেয়েকে চায়’ কি না, জানা নেই। কিন্তু বাংলার মেয়েরা কী চান, সেটা জানা দরকার। এখানে সম কাজে সম মজুরি হয় না। খেতমজুর মেয়েরা ১০০-১৫০ টাকা, রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে মেয়েরা ২০০-২৫০ টাকা পুরুষের থেকে কম মজুরি পান।” অন্য আলোচকদের মধ্যে ছিলেন চিকিৎসক অরুণ সিংহ এবং প্রসাদরঞ্জন দাশ।

    সভার সূত্রধার ছিলেন সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশ ভট্টাচার্য। ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, বুদ্ধদেবের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য-সহ অন্যেরাও। বুদ্ধ ও অনিল বিশ্বাসের জন্মদিনে সভা থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে দু’জনকেই। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, বুদ্ধদেবের নামে সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রও তৈরি হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেছেন ঊর্মিমালা বসু, রাজশ্রী ভট্টাচার্য, গণনাট্য সঙ্ঘের শিল্পীরা-সহ অন্যেরা।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)