তরুণ ব্রিগেড যে গুরুত্ব পাবে, তাতে কোনও সংশয় নেই। কিন্তু রাজ্যে শূন্য থেকে উঠে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে সিপিএম কি কেবল তরুণ মুখেই নির্ভর করবে? নাকি ভারসাম্য রাখতে ভোটের ময়দানে নামানো হবে বর্ষীয়ান নেতাদের মধ্যে কয়েক জনকে? ভোটের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে বসে এই প্রশ্ন ভাবাচ্ছে সিপিএমকে। ধন্দ আরও বাড়িয়ে তুলেছে এ বার কেরলের সমীকরণ!
প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার আগে বামফ্রন্টের ভিতরে ও বাইরে আসন সমঝোতা সম্পূর্ণ করতে হবে সিপিএমকে। কংগ্রেস এ বার একা লড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় গত দু’বারের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় বামফ্রন্টে আসন ভাগাভাগির জটিলতা কম হবে বলে মনে করেছিলেন বাম নেতারা। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তেমন হয়নি। বাম শরিক সিপিআইয়ের সঙ্গে সিপিএমের সমঝোতার আলোচনা প্রায় মিটে গিয়েছে তেমন কোনও সমস্যা ছাড়াই। কিন্তু অন্য দুই বাম শরিক ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি-র নিজেদের আসনের দাবি এবং আইএসএফ-কে নিয়ে নানা আপত্তি ঘিরে জট বহাল রয়েছে অনেক দিন। বাম শিবিরের একটি সূত্রের ব্যাখ্যা, কেরলে এলডিএফ সরকারে সিপিআই গুরুত্বপূর্ণ শরিক। সিপিএম ও সিপিআইয়ের দুই সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এবং ডি রাজার মধ্যে সম্পর্কও অনেক মসৃণ। দু’দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উৎসাহে এই রাজ্যে আসন ভাগের ক্ষেত্রে দুই দলই নমনীয় মনোভাব নিয়েছে। কেরলে আরএসপি এবং ফ ব আবার সিপিএমের প্রবল বিরোধী! আরএসপি কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফের শরিক হিসেবেই দক্ষিণী রাজ্যে ভোটে লড়বে, ফ ব-র আসনের দাবিও সেখানে কংগ্রেস নেতৃত্বের বিবেচনাধীন। সিপিআইকে পাশে রাখতে সিপিএম যতটা আগ্রহী, এই দুই দলের ক্ষেত্রে মনোভাব ঠিক সেই রকম নয় এবং তার নেপথ্যে কেরলের সমীকরণও অন্যতম কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে ওই সূত্রের মত।
কেরলের পরিস্থিতির কারণে বঙ্গ সিপিএমের চাপও কম নয়! দেশের একমাত্র রাজ্যে সরকার ধরে রাখতে মরিয়া সিপিএম। যে কারণে এ বার কেরলে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা কম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দু’বার বিধায়ক হয়ে থাকলে আর প্রার্থী নয়, এই নীতি এ বার কার্যকর হবে শুধু যে আসন দলের শক্ত ঘাঁটি, সেখানেই। সর্বত্র নয়। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নই ফের মুখ হিসেবে সামনে থাকবেন এবং পলিটব্যুরোর সদস্যদের মধ্যে একমাত্র তাঁকেই ভোটে লড়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে যাঁরা বিজয়ন মন্ত্রিসভার সদস্য তাঁরা অবশ্য প্রায় সকলেই ভোটে লড়বেন। মন্ত্রী নন, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এমন দু-এক জন সদস্যের নামও বিবেচনায় আছে। তবে কেরল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক ও পলিটব্যুরো সদস্য এম ভি গোবিন্দন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি নিজে ভোটে দাঁড়াবেন না তো বটেই। দলের জেলা সম্পাদকদের কেউ বিধানসভায় প্রার্থী হতে চাইলে তাঁকে সাংগঠনিক পদ ছেড়ে দিতে হবে।
এর জেরেই প্রশ্ন উঠছে, এখানে সিপিএম কী করবে? মহম্মদ সেলিম দলের রাজ্য সম্পাদক ও পলিটব্যুরো সদস্য। গোবিন্দনের দৃষ্টান্ত মানলে এ বার তাঁকে আর ভোটের ময়দানে দেখা যাওয়ার কথা নয়। তবে প্রাথমিক ভাবে প্রার্থী তালিকায় দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর কয়েক জন সদস্যের নাম বিবেচনায় আছে। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় যাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে হুগলির উত্তরপাড়ায় মীনাক্ষী এবং মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামে ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা (ওই কেন্দ্রে তাঁর বাবা ছিলেন বিধায়ক) পাড়ায় পাড়ায় জনসংযোগে নেমে পড়েছেন।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের মতে, ‘‘শুধু তরুণদেরই প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে দিলে প্রচার হতে পারে, সাফল্যের কোনও সম্ভাবনা নেই বলে নতুনদের এগিয়ে দিয়ে অন্যেরা আর কেউ নামেনি! নবীন-অভিজ্ঞ মুখে ভারসাম্য রেখেই প্রার্থী তালিকা সাজাতে হবে।’’