• দমকলের সদর দপ্তরের সামনে পার্কিং করতে বাধা, কর্মীদের মারধরের অভিযোগে ধৃত তিন
    বর্তমান | ০২ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মির্জা গালিব স্ট্রিটে দমকলের সদর দপ্তরের সামনে গাড়ি পার্কিং করতে না দেওয়ায় সেখানকার নিরাপত্তারক্ষী ও ফায়ার অপারেটদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে মদ্যপ যুবকদের বিরুদ্ধে। শনিবার রাত সাড়ে ৩টে নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এক ব্যবসায়ী সহ তিন যুবককে রাতেই গ্রেপ্তার করেছে পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ। যে গাড়ি নিয়ে গোলমাল, সেটির খোঁজ চলছে। অন্যদিকে, তিলজলা রোডে কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মীকে মারধরের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে তিলজলা থানার পুলিশ।

    দমকলের সদর দপ্তরের সামনে গাড়ি পার্কিং পুরোপুরি নিষিদ্ধ। পুলিশের গাড়িকেও এখানে দাঁড়াতে দেওয়া হয় না। যাতে আগুন লাগার খবর পেলে দ্রুত গাড়ি নিয়ে যেতে পারেন দমকলের কর্মীরা। শনিবার রাত সাড়ে ৩টে নাগাদ সদর দপ্তরের সামনে একটি গাড়ি পার্কিং করা হয়। এক নিরাপত্তা কর্মী তাঁদের বলেন, এখানে গাড়ি রাখা যাবে না। তখন গাড়ি থেকে নেমে তিন যুবক জানায়, এখানেই গাড়ি পার্কিং করা হবে। তিনি চাইলে যে কোনও জায়গায় অভিযোগ জানাতে পারেন। তাতে তাঁদের কিছু হবে না। নিরাপত্তারক্ষী তাঁদের বলেন, আগুন লাগলে দ্রুত দমকলের বেরবে। সামনে গাড়ি পার্কিং করা থাকলে দমকলের গাড়ি আটকে যাবে। কিন্তু তাঁর কথায় কান দেননি অভিযুক্তরা। উলটে তাঁরা তর্ক জুড়ে দেন। ঝগড়া শুনে বাইরে আসেন ফায়ার অপারেটরা। তাঁরাও একই কথা বলেন। এরপর তিন যুবক উত্তেজিত হয়ে ওই নিরাপত্তা রক্ষী ও এক ফায়ার অপারেটরকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি জানানো হয় পার্ক স্ট্রিট থানায়। তদন্তকারী অফিসার সহ পুলিশের টিম এসে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। নিরাপত্তারক্ষীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি কর্মীর কাজে বাধাদান, মারধর সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে পবন শর্মা, আদর্শ শর্মা ও কৃষ্ণ সোনকারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরমধ্যে আদর্শের ব্যবসা রয়েছে। তাঁরা সকলেই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। রবিবার ধৃতদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে বিচারক ৩ মার্চ পর্যন্ত জেল হেপাজতে পাঠান।

    অন্যদিকে তিলজলা রোডে শনিবার রাতে বাইক পার্কিং করে দুই যুবক। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা জানান, এখানে পার্কিং করা যাবে না। কারণ যানজট তৈরি হবে। তাঁদের বাইকটি সরিয়ে নিতে বলা হয়। এই নিয়ে কনস্টেবলের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন দু’জন। গাড়ি না সরানোয় ওই পুলিশকর্মী কেস করেন বাইকের বিরুদ্ধে। এতে উত্তেজিত হয়ে তাঁরা ওই পুলিশকর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। পুলিশকর্মী ফোন করে থানায় বিষয়টি জানান। এই ফাঁকে চম্পট দেন দু’জন। বাইকের নম্বরপ্লেটের সূত্র ধরে রাতেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
  • Link to this news (বর্তমান)