• রাজ্যের সিল্ক স্ক্রিন প্রিন্টিং হাবের শিলান্যাস, খুশি শিল্পোদ্যোগীরা
    বর্তমান | ০২ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ছোট শিল্পের শিলান্যাস হুগলির শ্রীরামপুরে। ঘোষণা হয়েছিল আগেই। কিন্তু জমিজটে আটকে ছিল শিল্পের পথচলা। অবশেষে রবিবার রাজ্য তথা হুগলি জেলার সিল্ক স্ক্রিন প্রিন্টিং হাবের শিলান্যাস হলো। রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শিল্পোদ্যোগীদের একাংশ। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন ওই শিল্প হাবের শিলান্যাস করেন। আজ, সোমবারই ওই শিল্পতালুকের সীমানা প্রাচীর তৈরির কাজ শুরু হয়ে যাবে। বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। ফলে এদিনের শিলান্যাস বিশেষ বার্তা বহন করছে, বিশেষ করে শিল্প নিয়ে বিতর্কের হুগলি জেলাতে তো বটেই।

    এদিন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখেও সেই কথাই শোনা গিয়েছে। শিলান্যাস পর্ব শেষ করে কল্যাণবাবু বলেন, শিল্প থেকে কৃষিকে উৎসাহ দিচ্ছে রাজ্যের তৃণমূল সরকার। শ্রীরামপুরের সিল্ক স্ক্রিন প্রিন্টিং হাব রাজ্য সরকারের একটি স্বপ্নের প্রকল্প। এদিন যে শুধু শিলান্যাস হয়েছে তাই নয়, প্রকল্পটি রূপায়ণের জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজের সূচনা করলাম আমরা। শ্রীরামপুর পুরসভার তরফে ওই কাজের তত্ত্বাবধান করছিলেন চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সদস্য সন্তোষ সিং (পাপ্পু)। তিনি বলেন, অনেক দিন জমিজটে প্রকল্পটি আটকে ছিল। আমরা আর সময় নষ্ট করতে চাই না। হুগলির সাবেক শিল্পনগরীর অন্যতম স্তম্ভ ছিল শ্রীরামপুর। আমরা সেই জায়গা ফেরাতে সবরকম প্রয়াস করছি। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে। এবার দ্রুত প্রকল্প শেষ করাই একমাত্র লক্ষ্য। শ্রীরামপুরের সমাজকর্মী সমীর সাহা বলেন, ছোট শিল্পোদ্যোগীদের জন্য রাজ্য সরকারের পরিকল্পনাটি ভালো। কিন্তু ওই প্রকল্পের রূপায়ণের উপরেই তার সাফল্য নির্ভর করবে। বিষয়টি উদ্যোক্তারা নজরে রাখবেন আশা করব। ভোটের মুখেই ওই প্রকল্প নিয়ে অবশ্য সমালোচনা করতে ছাড়ছে না বিজেপি। বিজেপির রাজ্যনেতা স্বপন পাল বলেন, মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ওইসব প্রকল্প করা হয়। শিল্প নাম দিয়ে আসলে ভাওতার রাজনীতি করা হচ্ছে। সামনে ভোট না থাকলে জমিজট কাটত না, এই শিলান্যাসের খেলাও শুরু হতো না।

    প্রসঙ্গত, হুগলির শ্রীরামপুরের প্রভাসনগরে বিরাট জমি ওই শিল্প হাব তৈরির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু মানুষ সেখানে বহুদিন ধরে চাষ করছেন বলে দাবি করে জমি দিতে অস্বীকার করেন। এনিয়ে জমি মাপার প্রয়াস করতে গিয়ে একাধিকবার বিতর্ক হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সেইসব বিতর্ক মিটিয়ে শিলান্যাস সারল রাজ্য সরকার।
  • Link to this news (বর্তমান)