• ভোটার লিস্টে ‘বিচারাধীন’ তিনবারের বিধায়ক স্বাতী! ফর্ম ৬ নিয়ে হুগলিতে তৎপর তৃণমূল শিবির
    বর্তমান | ০২ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: নথি জমা দিয়েও লাভ হল না। চূড়ান্ত তালিকায় ‘বিচারাধীন’ করেই রাখা হল হুগলির চণ্ডীতলার বিধায়ক স্বাতী খোন্দকারকে। রবিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই হইচই শুরু হয়েছে। রাজ্যের একাধিকবারের বিধায়কের ওই হাল ঘিরে ফের একবার নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিধায়ক স্বাতীর বাবা দুর্গাচরণ দত্ত বৈদ্যবাটি পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। আর স্বামী প্রয়াত আকবর আলি খোন্দকার ছিলেন সাংসদ। এহেন নাগরিকের ভোটারধিকার নিয়ে কমিশন নিঃসংশয় হতে না-পারায় তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ বিধায়কই।

    গত জানুয়ারিতে নোটিস করা হয়েছিল ওই বিধায়ককে। জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের এসআইআর পর্বের পরে তাঁর ভোটার তালিকায় নাম ছিল। কিন্তু তিনি তখন অবিবাহিত ছিলেন। তাঁর পদবি ছিল ‘দত্ত’। পরবর্তীতে নামের সঙ্গে ‘খোন্দকার’ জুড়ে যাওয়ার কারণেই তাঁর ভোটাধিকার নিয়ে সন্দিহান হয় কমিশন। তাই নোটিস জারি হয়। নিজের ভোটাধিকারের সপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণসহ নির্দিষ্ট দিনেই স্বাতী খোন্দকার হাজির দেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নিশ্চিত ভোটার হওয়ার সুযোগ মেলেনি। ক্ষুব্ধ বিধায়ক এদিন বলেন, আমার বাবা জনপ্রতিনিধি ছিলেন। আমার স্বামী ছিলেন এমপি। তাঁর স্ত্রী হওয়ার সুবাদে আমার যাবতীয় নথি কমিশনের কাছে থাকার কথা। আমি নিজে তিনবারের বিধায়ক। তারপরেও আমার সম্পর্কে তথ্য কমিশনের কাছে নেই! শুনানিতে গিয়ে আমি যাবতীয় তথ্য দিয়েছি। তারপরেও আমার ভোটাধিকার সংশয়মুক্ত হল না! এ নিছকই চক্রান্ত। নাগরিকদের হেনস্তা করার কেন্দ্রীয় ষড়যন্ত্রের জবাব আর কিছুদিনের মধ্যেই মানুষ দিয়ে দেবে।

    এদিকে, হুগলি জেলাজুড়ে বহু ভোটারের নাম যেমন বিচারাধীন করা হয়েছে তেমনই বহু ভোটারের নাম ‘ডিলিট’ হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই সব নাম বাদ পড়ার বা বিচারধীন হওয়ার সুষ্ঠু যুক্তি মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস ফর্ম ৬ নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছে। ব্লকে ব্লকে উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এনিয়ে হুগলি জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অসীমা পাত্র বলেন, কমিশন যা করেছে তা রাজনৈতিক চক্রান্ত। আমরা আইনি ও সাংবিধানিক পথে তার জবাব দেব। ইতিমধ্যেই কমিশন অনেকটা বে-আব্রু হয়ে গিয়েছে। এবার নাগরিকদের ভোটধিকার বাঁচিয়ে তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করতে হবে।

    প্রসঙ্গত, এসআইআর পর্বের আগে হুগলি জেলায় ৪৭ লক্ষ ৭৫ হাজার ৯৯ জনের নাম ভোটার তালিকায় ছিল। এসআইআরের খসড়ায় ৪৪ লক্ষ ৫৬ হাজার ২২৫ জনের নাম প্রকাশিত হয়। শনিবারের চূড়ান্ত তালিকায় ৪৪ লক্ষ ৪০ হাজার ২৯৩ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তার মধ্যে ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৬৪ জন বিচারধীন তালিকায় আছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)