পাসপোর্ট, অ্যাডমিট দিয়েও ‘বিচারাধীন’ তৃণমূল নেতা, নদীয়ায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দেখছে তৃণমূল, ২০০২ সালের তালিকায় নাম রয়েছে
বর্তমান | ০২ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ২০০২ সালের তালিকায় নাম রয়েছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে পাসপোর্ট ও মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা করেছিলেন কালীগঞ্জ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমানকে। কিন্তু তারপরেও ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন ভোটার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তাঁকে।শনিবার চূড়ান্ত তালিকা বেরোনোর পর দেখা যায় তাতে তৃণমূল নেতাকে ‘আণ্ডার অ্যাজুডিকশন’ হিসেবে মার্ক করা রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি পাসপোর্ট, মাধ্যমিকের কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিও বৈধতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়? শুধু ব্লকের সহ-সভাপতি নয়, এই তালিকায় রয়েছে কালীগঞ্জের পানিঘাটা পঞ্চায়েত তৃণমূল প্রধান সহ একাধিক পঞ্চায়েত সদস্য, হাটগাছা পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ও তৃণমূল সদস্যের নাম। যদিও এর পিছনে নির্বাচন কমিশনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দেখছেন শাসকদল। শুধু তৃণমূল নেতা নয়, বুথের বিএলওদেরকেও ‘বিচারাধীন ভোটারের’ তালিকায় রাখা হয়েছে। যেমন কালীগঞ্জের জুড়ানপুর পঞ্চায়েতের দুজন বিএলও, দেবগ্রামের একজন, হাটগাছা পঞ্চায়েতের একজন বিএলও বিচারাধীন হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন।
কালীগঞ্জ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমানথাকেন দেবগ্রাম পঞ্চায়েতের ১৮০ নম্বর বুথে।নির্বাচন কমিশনের চোখে তিনি ‘ম্যাপড’ ভোটার। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর জিয়াউর রহমান আহমেদ রয়েছে।কিন্তু নতুন ভোটার তালিকায় শুধুমাত্র জিয়াউর রহমান রয়েছে। যার জন্য তাঁকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটারের হিসেবে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। সেইমতো কমিশন নির্ধারিত পাসপোর্ট, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড সহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জমা করেছিলেন। তৃণমূল নেতা বলেন, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে নির্বাচন কমিশন লক্ষ লক্ষ মানুষকে নির্যাতন করেছে। মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় আমাদের দল এসআইআরের শুরু থেকেই লড়াই করছে। কিন্তু সমস্ত নথি জমা করার পরেও চূড়ান্ত তালিকায় আমার নাম বিচারাধীন দেখিয়েছে।’ একইভাবে পানিঘাটার পঞ্চায়েত প্রধান সেন্টু মুন্সি বলেন, নামের ভুলের কারণে আমাকে শুনানিতে ডেকেছিল। কিন্তু সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরেও আমাকে বিচারাধীন দেখিয়েছে। উল্লেখ্য, কালীগঞ্জ বিধানসভায় ইতিমধ্যেই প্রায় ১২ হাজার নাম বাদ পড়েছে। বিচারাধীন এসেছে প্রায় ১৫ হাজার নাম। এই পরিস্থিতিতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের নেতাদের বিচারাধীন ভোটারের তালিকায় নাম আসা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কালীগঞ্জে বিডিও কাঞ্চন রায় বলেন, কিছু বিএলও’র নামে আণ্ডার আ্যজুডিকশন আসার বিষয়টি শুনেছি। এটা মূলত যাদের নথি পুনর্যাচাইয়ের জন্য অবজার্ভাররা পাঠিয়েছিলেন তাঁরাই এই তালিকায় রয়েছে। এবার বিচারকরা বিষয়টি দেখবেন। কালীগঞ্জের পাশাপাশি, নাকাশিপাড়া, কৃষ্ণনগর-১ ব্লকেও একই ছবি দেখা গিয়েছে। কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের তৃণমূলের রুইপুকুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য ইনার আলি শেখ বলেন, আমার মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে। আমার মেয়ের জন্য ওবিসি সার্টিফিকেট এবং ছেলের জন্য পাসপোর্ট সহ বিভিন্ন পরিচয়পত্র জমা করা হয়েছিলো। কিন্তু আমার পরিবারের এই তিনজনকেই বিচারাধীন ভোটার হিসেবে রেখেছে।
নদীয়া জেলায় ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৯৪০ জনের নাম বিচারাধীন ভোটারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নথিগত সমস্যায় আগেই ‘ইন-এলিজেবল’ হওয়া ভোটারদের পাশাপাশি অবজার্ভারদের আপত্তির মুখে পড়া ব্যক্তিদের নামও এই তালিকায় রয়েছে। শনিবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর বুথে বুথে বহু নামের পাশে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ চিহ্ন দেখা যায়, ফলে কয়েক লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ এখন বিচারপ্রক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। চাপড়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল।