• গড়বেতায় পরিবর্তন যাত্রায় ভরল না মাঠের সিকিভাগও, কটাক্ষ তৃণমূলের
    বর্তমান | ০২ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: কর্মী-সমর্থকরা ভিড় জমাবেন তো! গড়বেতায় কার্যত এই ভয়কে সঙ্গী করেই গোটা স্কুল মাঠের অর্ধেকের কম অংশ নিয়ে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার সূচনা হল। শত চেষ্টাতেও বিজেপির কর্মীদের উপস্থিতি ছিল কম। তাতে বেশ অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। জানা গিয়েছে, এদিনের পরিবর্তন সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির প্রথম সারির নেতারা। যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল নেতাদের কথায়, ১২ আনা মাঠের ৪ আনায় অনুষ্ঠান করতে হয়েছে। তাও মাঠ ভরাতে পারেনি। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পরেও বহু চেয়ার খালি ছিল। তবে এদিনের পরিবর্তন সভায় বিজেপিতে যোগদান করেন কুড়মি নেতা রাজেশ মাহাত। জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি অসীম ওঝা বলেন, এত বড় নেতাদের এনেও লোক জোগাড় করতে পারেনি। এরা নাকি রাজ্য চালাবে। তৃণমূলের মিছিল হলেও ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষের সমাগম হয়। বিজেপির নেতাদের জন্য করুণা হচ্ছে।

    পশ্চিম মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা, নির্বাচন এলেই শীর্ষ নেতৃত্বের তৎপরতা বাড়ে, কিন্তু বুথস্তরে বিজেপির সংগঠন মজবুত করার দিকে লক্ষ্য নেই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দিল্লির একাধিক নেতা জেলায় প্রচারে আসেন। প্রচার, জনসভা ও কর্মসূচি হলেও বিজেপির সংগঠন নিয়ে পর্যাপ্ত নজরদারি ছিল না বলেই মত দলের একাংশের। ফলও মিলেছিল সেই মতো। জেলার ১৫টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৩টিতেই পরাজিত হয় বিজেপি। বিপুল ব্যয় সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না মেলায় পরবর্তীতে লক্ষ্য স্থির করা হয় ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন।

    তবে স্থানীয় কর্মীদের দাবি, বছরভর সাংগঠনিক যোগাযোগের ঘাটতি থাকলেও ভোট ঘনিয়ে এলেই নানা আয়োজন চোখে পড়ে। কিন্তু সেই কৌশলও ফলপ্রসূ হয়নি। ঘাটাল ও মেদিনীপুর— দুই লোকসভা কেন্দ্রেই জয় অধরাই থেকে যায় গেরুয়া শিবিরের। লোকসভা ভোটের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার ১৫টি বিধানসভার মধ্যে ১৪টিতেই পিছিয়ে ছিল বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে সংগঠন চাঙ্গা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক নেতা জানান, কর্মসূচিতে নেতাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতেও অনেক সময় অনুরোধ করতে হচ্ছে। কিছু নেতার নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। রাজ্য নেতৃত্ব ভিন রাজ্যের পর্যবেক্ষক পাঠালেও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের পর্যাপ্ত ধারণা নেই। সব মিলিয়ে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলায় সংগঠন পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জই এখন বড় প্রশ্ন। পরির্বতন যাত্রার সূচনাতে অন্তত ৫০ হাজার মানুষের সমাগম করা উচিত ছিল।মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, মানুষ ভোট বাক্সে জবাব দেবেই। তৃণমূল নেতারা টাকা দেখতে পান। তাই লোক দেখতে পায়নি। জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, বিজেপি দলটাই আর থাকবে না বলে মনে হয়। কর্মীদের পাশে নেতারা সারা বছর থাকে না। ভোট এলেই কর্মীদের কথা মনে পড়ে।
  • Link to this news (বর্তমান)