• শুরু থেকেই 'জায়ান্ট কিলার', বাম শাসন উপড়ে ফেলা মমতা যেভাবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী...
    আজ তক | ০২ মার্চ ২০২৬
  • ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন দক্ষিণ কলকাতার একজন স্থানীয় কংগ্রেস নেত্রী। যাদবপুর কেন্দ্র থেকে সিপিআইএমের বর্ষীয়ান নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়ান। অপ্রত্যাশিতভাবে সেই ভোটে জিতেও যান। সেই ঘটনা সাড়া ফেলে দেয় রাজ্যে। পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যান। এভাবেই সংসদীয় রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের। সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতাকে ভোটে পরাজিত করা মমতার রাজনৈতিক পথ তৈরি করে দিয়েছিল বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। যদিও সেই পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে নিজেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নেতৃত্বেই সেই দল ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে। মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। ২০১৬ ও ২০২১ সালেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসেন তিনি। ২০২৬ সালের নির্বাচনেও তাঁর টার্গেট ফের ক্ষমতায় আসা ও পরপর তিনবার সরকার গঠন। তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। 

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শৈশব ও লেখাপড়া 

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ৫ জানুয়ারি ১৯৫৫ সালে কলকাতার হাজরা অঞ্চলে এক মধ্যবিত্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই তিনি অত্যন্ত সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবেশে বড় হন। তাঁর বাবা প্রমীলেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। তবে বাবার অকালমৃত্যুর পর পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব অনেকটাই তাঁর কাঁধে এসে পড়ে। খুব অল্প বয়স থেকেই সংসারের হাল ধরেন তিনি। কলকাতার শ্রীশিক্ষায়তন কলেজ থেকে বি.এ. ডিগ্রি সম্পূর্ণ করার পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে কলকাতার যোগেশচন্দ্র চৌধুরী আইন কলেজ থেকে এলএল.বি. ডিগ্রি। ছোটোবেলা থেকেই টিউশনি পড়াতেন। সংসারের হাল ধরার জন্য কিছুদিন একটি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতাও করেছিলেন। 

    রাজনীতিতে প্রবেশ, যাদবপুর কেন্দ্রে জয় ও হার 

    কলেজ জীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। কংগ্রেস দলে তাঁর হাতে খড়ি। ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কংগ্রেস (আই)-এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তখনই তিনি যুবনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেয়ে গিয়েছেন। কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় কাজের জন্য পরিচিত হয়ে ওঠেন। কংগ্রেসেও জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে তাঁর। 

    এদিকে তার মধ্যেই চলে আসে ১৯৮৪ সালের লোকসভা ভোট। সেই ভোটে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করে কংগ্রেস দল। তাঁর বিপরীতে ছিলেন বামেদের প্রবীণ নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। তবে সবাইকে অবাক করে সোমনাথকে মমতা হারিয়ে দেন ১৯,৬৫১ ভোটে। দেশের অন্যতম কনিষ্ঠ সাংসদ হন তিনি। 

    তবে সেই আসন ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ১৯৮৯ সালে ফের সেই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সোমনাথ চট্টোপাধ্য়ায়ের কাছে হেরে যান। তাঁর পরাজিত হওয়ার ব্যবধান ছিল ১ লক্ষেরও বেশি ভোট। কিন্তু তারপরও দমে যাননি তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, সেই বার হেরে যাওয়ার পর আরও অনেক কংগ্রেস নেতার মতো হারিয়ে যেতে পারতেন মমতা। তবে তিনি আরও বেশি করে জনসংযোগ গড়ে তোলার কাজে মন দেন। কংগ্রেসের অন্দরে নিজের পায়ের মাটি শক্ত করেন। সংগঠন শক্তিশালী করেন। 

    ঘুরে দাঁড়ালেন মমতা 

    সোমনাথ চট্টোপাধ্য়ায়ের কাছে পরাজিত হওয়ার পর ১৯৯১ সালের ভোটে আর যাদবপুর কেন্দ্র থেকে না দাঁড়িয়ে দক্ষিণ কলকাতা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই থেকে ওই কেন্দ্রের টানা সাংসদ হন তিনি।  ১৯৯১, ১৯৯৬, ১৯৯৮, ১৯৯৯, ২০০৪ ও ২০০৯ সালের ভোটে একের পর এক বাম প্রার্থীকে পরাজিত করেন। তিনি ভোটের ময়দানে কার্যত অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। একই সঙ্গে রাজ্য বিধানসভা ভোটে সিপিএমের বিরোধিতা করতে থাকেন। ২০০৫-০৬ সালের পর থেকেই কলকাতা ও তার আশপাশের জেলাগুলোতে তৃণমূলের শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে পেরেছিলেন তিনি। 

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মমতা ও বিভিন্ন কারণে পদত্যাগ 

    ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৯ সাল। লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর একাধিক মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে কংগ্রেসের নরসিমা রাওয়ের আমলে যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া, মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী হন তিনি। তবে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও রাজ্য রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার অভিযোগে সেবার মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেন তিনি। 

    ২০০১ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ীর সরকারকে সমর্থন করেছিলেন মমতা। হয়েছিলেন রেলমন্ত্রী। তবে তৎকালীন তেহেলকা কাণ্ড ও রাজনৈতিক চাপের প্রেক্ষিতে তিনি এনডিএ সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করেন। ছেড়ে দেন মন্ত্রিত্ব। 

    ২০০৪ সালে প্রথম এনডিএ সরকারকে ফের সমর্থন করে কয়লা ও খনি মন্ত্রী হন মমতা। কিন্তু এবারও জোট রাজনীতির টানাপোড়েনের কারণে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পদ ছেড়ে দেন। 

    দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের আমলেও রেলমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। তবেব পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কারণে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন। 

    কংগ্রেস ত্যাগ ও বামেদের বিরোধিতা

    ১৯৯৭ সালের শেষের দিক। বিভিন্ন কারণে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয় মমতার। তাঁর অভিযোগ ছিল, পশ্চিমবঙ্গে বামেদের বিরোধিতা করার জন্য যা যা পদক্ষেপ, আন্দোলন গড়ার প্রয়োজন সেই সব করে না কংগ্রেস নেতৃত্বে। বামেদের প্রতি সুর নরম থাকে কংগ্রেস নেতৃত্বের। সেই বিরোধিতা থেকেই তিনি বেরিয়ে আসেন কংগ্রেস দল থেকে। এই সমস্ত সংঘাতের জেরে ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের নির্দেশে তৎকালীন সর্বভারতীয় কংগ্রেস সভাপতি সীতারাম কেশরী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেন। কংগ্রেসের বহু কর্মী মমতার হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয় মমতার হাত ধরেই।

    এদিকে নয়া দল গঠন করেই ১৯৯৮ সালের লোকসভা ভোটে রাজ্যের আসনগুলোতে প্রার্থী দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথমবারই বাজিমাত করে দেন মমতা। সাতটি আসন পায় ঘাসফুল শিবির। কার্যত স্পষ্ট হয়ে যায়, তৃণমূল কংগ্রেসই প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে চলেছে বামেদের। 

    মমতার ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষাপট 

    কংগ্রেস নেত্রী থাকাকালীনই রাইটার্স বিল্ডিং অভিযান, প্রতিবন্ধী মহিলা ধর্ষণের প্রতিবাদে আন্দোলন করেছিলেন মমতা। তবে তাঁকে প্রথম জনপ্রিয় করে তোলে ১৬ আগস্ট ১৯৯০ সালে কলকাতার হাজরা মোড়ের আন্দোলন। যুব কংগ্রেসের সেই মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। 
    গুরুতর আহত হন মমতা। এই ঘটনাই তাঁকে ‘লড়াকু’ বিরোধী নেত্রী হিসেবে রাজ্য রাজনীতিতে বড় পরিচিতি দেয়। ২১ জুলাই ১৯৯৩ সালে ভোটার পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার দাবিতে মিছিল করেছিলেন মমতা। তাতে পুলিশ গুলি চালায়। অনেকে জখম হন ও মারা যান। এছাড়াও বামেদের অপারেশন সানসাইনের বিরুদ্ধে গড়িয়াহাট মোড়ে আন্দোলন সংগঠিত করেছিলেন তিনি। 

    নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুর আন্দোলন 

    বামেদের বিরুদ্ধে একাধিক আন্দোলন গড়ে তুললেও মমতার ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষাপট তৈরি করে দেয় সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলন। সিঙ্গুরে ২০০৬ সালে টাটা মোটরসের ছোটো গাড়ি কারখানার জন্য কৃষিজমি অধিগ্রহণ শুরু করে বামফ্রন্ট সরকার। তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিরোধিতা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বহু-ফসলি জমি জোর করে নেওয়া হচ্ছে এবং অনেক অনিচ্ছুক কৃষক ক্ষতিপূরণ নিতে চান না। মমতা সিঙ্গুরে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং জমি ফেরতের দাবিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
    ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি কলকাতার ধর্মতলায় টানা ২৫ দিন অনশন শুরু করেন, দাবি ছিল অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরত দিতে হবে। এই অনশন জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে এবং বামফ্রন্ট সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ায়। সিঙ্গুরে নিয়মিত মিছিল, ধর্না ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চলতে থাকে, তৃণমূল কংগ্রেস আন্দোলনকে রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।  প্রবল আন্দোলনের জেরে ২০০৮ সালে টাটা মোটরস সিঙ্গুর প্রকল্প সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।

    ঠিক এর পরের বছরই নন্দীগ্রাম আন্দোলন মমতার রাজনৈতিক জীবনের আর এক মাইলস্টোন। ২০০৭ সালের শুরুতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) গড়ার জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেয় তৎকালীন বাম সরকার। শিল্প প্রকল্পের জন্য জমি চিহ্নিত করলে স্থানীয় গ্রামবাসীদের একাংশ তীব্র বিরোধিতা শুরু করে। এই আন্দোলন সংগঠিত হয় ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে এবং দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়। যার নেতৃত্ব দেন মমতা। 

    ১৪ মার্চ ২০০৭। পুলিশ ওই এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বাধে এবং পুলিশের গুলিচালনায় সরকারি হিসাবে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। বিরোধী পক্ষের দাবি ছিল মৃতের সংখ্যা আরও বেশি। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং ‘নন্দীগ্রাম গণহত্যা’ নামে পরিচিত হয়।
    এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মমতা রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেন। বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে ওঠে রাজ্যে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, এই সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম ইস্যু তাঁর অবস্থান রাজ্যে বিরোধী রাজনীতিকে নতুন গতি দেয়। বামেদের ভাবমূর্তি ব্যাপক ধাক্কা খায়। এই দুই ঘটনার উপরই ভর করে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসেন মমতা। 

    মমতার আমলেই বাম শাসনের অবসান ও বিজেপির উত্থান 

    ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেসের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল সংখ্যক  আসন পায়। এর ফলে ক্ষমতার শীর্ষে বসেন মমতা। ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন ঘটে। এদিকে ঠিক তার পরের বছরই তিনি ইউপিএ সরকার থেকে নিজের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন। 

    ২০১১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল একাই পেয়েছিল ১৮৪ আসন। এক ধাক্কায় মোট ভোটের ৭৭ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছিল ঘাসফুল শিবির। সেখানে এক ধাক্কায় ভোটব্যাঙ্ক কার্যত শূন্য হয়ে যায় বামেদের। 

    তবে বামেদের ভোট কমতে শুরু করলেও রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিজেপি। ২০১৪ সালের পর থেকে দলটি উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো ফল করতে শুরু করে। সেবার লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যে ২টি আসন জেতে এবং প্রায় ১৭% ভোট পায়।  
    ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ৩টি আসন পেলেও ভোট শেয়ার বেড়ে যায়। বড় উত্থান হয় ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে। বিজেপি ১৮টি আসন জেতে এবং প্রায় ৪০% ভোট পায়। এই ফলাফল রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে তাদের প্রতিষ্ঠিত করে।
    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৭৭টি আসন জিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়। 

    নন্দীগ্রামে মমতার পরাজয় 

    যে নন্দীগ্রাম আন্দোলনকে হাতিয়ার করে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই কেন্দ্র থেকেই তিনি পরাজিত হন ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে। তাঁরই দলের সদস্য শুভেন্দু অধিকারী এই ভোটের আগে দলত্যাগ করে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছিলেন। সেই শুভেন্দুর হাতেই পরাজিত হন তিনি। যদিও তিনি পরে ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকেন। তবে সেবার প্রথমবার ৭৭ আসন পায় গেরুয়া শিবির। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হন শুভেন্দু। 

    ২০২৬-এর ভোটে চ্যালেঞ্জের মুখে মমতা

    বিজেপি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর থেকে রাজ্যে বামেদের ভোট প্রচুর কমেছে। একটাও সিট তাদের নেই। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এবারও লড়াই দ্বিমুখী। তৃণমূল বনাম বিজেপি। মমতার এবারের ইস্যু, SIR। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি যৌথভাবে তৃণমূলকে হারানোর চক্রান্ত সফল করতে SIR করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে লাখ লাখ ভোটারার নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাদের পাল্টা দাবি, অনুপ্রবেশকারী ও অবৈধ ভোটারদের ভোটে দীর্ঘদিন ধরে জিতে আসছে তৃণমূল। 

    ২০২১ সালের ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস ভোট পেয়েছিল প্রায় ৪৮ শতাংশ। সেখানে বিজেপির দখলে ছিল প্রায় ৩৯ শতাংশ। এবার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন মমতা। তবে জিতে তিনি চতুর্থবার ক্ষমতায় আসতে পারেন কি না সেটাই দেখার।

     
  • Link to this news (আজ তক)