একুশে মমতা পাড়ি দেন নন্দীগ্রাম, ছাব্বিশে কি শুভেন্দু ভবানীপুরে? কিছু ঘটনায় ইঙ্গিত জোরাল
আজ তক | ০২ মার্চ ২০২৬
রাজনীতিতে একটি প্রবাদ রয়েছে, 'রাজনীতিতে সময়ই সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়!' ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সবচেয়ে হাইভোল্টেজ লড়াইটি ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম আসনে হয়েছিল সেই লড়াই। মমতা পরাজিত হয়েছিলে ১৯৫৬ ভোটে। পরে ভবানীপুরে উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দু রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
২০২৬ সালের ভোটেও কি সেই লড়াইয়েরই পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে? এবার কি শুধু আসনটি বদলে যাবে? অর্থাত্, একুশের ভোটে মমতা দাঁড়িয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর শক্তঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রামে। ছাব্বিশে কি শুভেন্দু লড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘাঁটি ভবানীপুরে? বেশ কিছু ঘটনা ও মন্তব্য ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা উঠছেই।
ভবানীপুরে প্রায়৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ
SIR-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পরে দেখা গিয়েছে, ভবানীপুরে প্রায় ৪৭ হাজার নাম বাদ পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে মোট ২৬৭টি বুথ রয়েছে। এই কেন্দ্রের খসড়া তালিকায় ছিল ১ লক্ষ ৬১ হাজার ৫২৫ জনের নাম। নতুন তালিকায় তা কমে হয়েছে ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ২০১ জন। বিচারাধীন রয়েছে ১৪ হাজার ১৫৪ জনের নাম। এরপর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপি-র নেতারা দাবি করতে শুরু করেছেন, ভবানীপুর কেন্দ্রে ২০২৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারছেন।
২০১৪ থেকে ভবানীপুরে একাধিক ওয়ার্ডে লিড দিয়েছে বিজেপি
২০১১ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি অটুট রেখেছে ভবানীপুর। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোট থেকেই ভবানীপুর কেন্দ্রে কয়েকটি ওয়ার্ডে ভাল করেছে বিজেপি। ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে তৈরি ভবানীপুর বিধানসভা। ২০১৪ সালে লোকসভায় ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী তথাগত রায় তৃণমূলের সুব্রত বক্সীকে ১৭৬ ভোটে পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন। ভবানীপুরের এই ট্রেন্ডের উপরেই ভরসা করে ২০২৬ সালের বিধানসভায় বাজিমাত করার স্বপ্ন দেখছে বিজেপি।
এখন প্রশ্ন হল, শুভেন্দু অধিকারী কি ভবানীপুর কেন্দ্রের বিজেপি-র প্রার্থী হতে পারেন? তার জোরাল ইঙ্গিত মিলছে বেশি কিছু ঘটনায়। একটু বিশদে আলোকপাত করা যাক।
ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর ওয়াররুম
ভবানীপুর ভোটে কড়া টক্কর দিতে বিশেষ ওয়াররুম গড়েছে শুভেন্দু অধিকারী। এই অফিস থেকে গোটা বিধানসভার ভোট পরিচালনার কাজকর্ম হবে। কলকাতা পুরসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের ৮/১বি চক্রবেড়িয়া রোডের (দক্ষিণ) একটি বাড়ির নীচের তলায় তৈরি করা হয়েছে এই ওয়ার রুম। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডেই কেন ওয়াররুম? এখানেও নেপথ্যে গেরুয়া ভোটব্যাঙ্ক। এই ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে গতবার সবচেয়ে বেশি লিড ছিল বিজেপির।
সুকান্ত মজুমদারের মুখে শুভেন্দুর নাম
ভবানীপুরে প্রার্থী ঠিক না হলেও, দেওয়ালে পদ্মফুল এঁকে প্রচার শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীর প্রার্থী হওয়া নিয়ে সুকান্ত মজুমদারের মন্তব্য, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটে দাঁড়ান, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কে প্রার্থী হবে দলই ঠিক করবে। দল যদি মনে করে শুভেন্দুদা এখানে যোগ্য প্রার্থী, তাহলে তিনিই দাঁডাবেন।' অর্থাত্ শুভেন্দু অধিকারীর ভবানীপুরে দাঁড়ানোর বিষয়টি হাওয়ায় ভাসিয়ে দিলেন সুকান্ত।
শুভেন্দু বলছেন, 'ভবানীপুরেও হারাব'
শুধু সুকান্ত নন। শুভেন্দু অধিকারীর মুখেও ভবানীপুরে হারানোর হুঁশিয়ারি শোনা গিয়েছে। একাধিক জনসভা থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম, শুভেন্দু বলছেন, 'নন্দীগ্রামে হারিয়েছি, এবার ভবানীপুরেও হারাব। ২০ হাজার ভোটে হারিয়ে ওঁকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী করব।'
এবারে প্রশ্ন উঠছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি ভবানীপুরেই দাঁড়াবেন? নাকি গত বিধানসভা ভোটের মতো তিনি আসন বদলাতে পারেন? আপাতত তৃণমূল কংগ্রেসের দিকেই চেয়ে রয়েছে বিজেপি। অর্থাত্ ছাব্বিশেও মমতা বনাম শুভেন্দু লড়াই দেখা যাবে কিনা, তা নির্ভর করছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোন আসনে প্রার্থী হচ্ছেন, তার উপরে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে যদিও চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে শুভেন্দুকে। আপাতত, সময়ই সবচেয়ে বড় প্লেয়ার!