নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বিশ্বজয়ী ক্রিকেটার থেকে সাবেক ছিটমহলবাসী। মতুয়া থেকে আদিবাসী। চা শ্রমিক থেকে কৃষক, সংখ্যালঘু। ভোটার তালিকায় সংশ্লিষ্ট বাসিন্দা সহ উত্তরবঙ্গের হাজার হাজার মানুষ বিচারাধীন! এনিয়ে আন্দোলনে পাহাড় থেকে সমতল। জোড়াফুল এবং বামেরা। সোমবার তারা পৃথক পৃথকভাবে প্রশাসনিক ভবনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। পথ অবরোধ করেছে। এনিয়ে চরম ফাঁপরে পদ্ম শিবির।
এদিন দুপুরে ভোটার তালিকা ইস্যুতে শিলিগুড়িতে সিপিএমের অনিল বিশ্বাস ভবনের সামনে জমায়েত করেন বামফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা মিছিল করে হিলকার্ট রোড ধরে এসডিও অফিসে আসেন। সেখানে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি পথ অবরোধ করেন। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন সিপিএম নেতা মুন্সি নুরুল ইসলাম, দিলীপ সিং, মৌসুমি হাজরা প্রমুখ। সিপিএম নেতা শরদিন্দু চক্রবর্তী বলেন, ভারতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য রিচা ঘোষ সহ প্রচুর নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় বিচারাধীন রয়েছে। তাছাড়া তালিকায় মৃত ভোটারের নাম থাকলেও বৈধ ভোটারের নাম কাটা হয়েছে। বিজেপির এই চক্রান্তের প্রতিবাদেই রাস্তায় নেমেছি।
এদিকে, রিচা ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন কৈফিয়ৎ তলব করতেই জবাব দিয়েছেন শিলিগুড়ি শহরের এইআরও বিশ্বজিৎ দাস। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময়েই রিচার বাবার পাসপোর্ট, আধারকার্ড, রিচা ও তাঁর দিদির জন্ম সার্টিফিকেট কমিশনের কাছে দাখিল করা হয়েছিল। তা হলেও সেগুলি বিচারাধীন হয়েছিল কেন, বুঝতে পারছি না। সম্ভবত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমনটা হয়েছে। বিষয়টি কমিশনকে জানানো হয়েছে।
ভোটার তালিকা ইস্যুতে এদিন জলপাইগুড়ি শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে ডিওয়াইএফ। তারা পুলিশি বাধার অভিযোগ তুলে এসডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায়। কিছুক্ষণ রাস্তা অবরোধও করে। দার্জিলিং পাহাড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। দিনহাটায় মহকুমা শাসকের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান সাবেক ছিটমহলবাসীরা।
এদিকে, সাবেক বাংলাদেশি ছিটমহলের বাসিন্দাদের ভোট রক্ষার দাবিতে প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দল। সেখানে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ, কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক, জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি আব্দুল জলিল আহমেদ প্রমুখ ছিলেন। পরে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী বলেন, বিচারাধীন অবস্থায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকার রক্ষা করতে হবে। এটা নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে। সাবেক ছিটমহলের একজন বাসিন্দারও নাম বাদ দেওয়া যাবে না। তা হলে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে। ১০ মার্চের মধ্যে এটা করতে হবে। না হলে আমরা জোরদার আন্দোলনে নামব।
জেলাশাসক তথা জেলা রিটার্নিং অফিসার রাজু মিশ্রর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা করে বেরিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা এদিন ডিএম নয়, রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে দেখা করেছি। যেভাবে কাজ চলছে তাতে আমরা সন্ধিহান প্রকৃত নাগরিকদের ভোটের অধিকার রক্ষিত হবে কি না। বিচারাধীন রয়েছেন ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ভোটার। তাহলে বিশাল সংখ্যক ভোটারের এই কাজ কত দিনে শেষ হবে।