নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: মালদহে বিচারাধীন আট লক্ষের বেশি ভোটারের ভাগ্য ঠিক না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন ঘোষণা করা যাবে না। এই দাবিতে দোল উৎসবের পর গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ধর্নায় বসতে চলেছে মালদহ জেলা কংগ্রেস। সোমবার এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী। এমনকি তাঁরা এবিষয়ে প্রদেশ নেতৃত্ব এবং হাইকমান্ডের সঙ্গে আলোচনা করে সম্মতি নিয়েছেন বলেও জানান ঈশা।
কংগ্রেসের দাবি, বিপুল ভোটার যদি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, তাহলে অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে পারে না। অতএব, যতদিন না বিচারাধীন ভোটারদের বিষয়টির নিষ্পত্তি হচ্ছে, স্থগিত রাখতে হবে বিধানসভা নির্বাচন প্রক্রিয়া।
সাংসদ এদিন অভিযোগ করে বলেন, মালদহের মানুষের হাতে চাকরি নেই। এখানে শিল্প আসছে না। ফি বছর মানুষের বাড়ি, জমি গঙ্গায় তলিয়ে যাচ্ছে। এই সমস্ত জ্বলন্ত সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রের উদ্যোগ নেই। আর এসব থেকে নজর ঘোরাতেই বিভাজন সৃষ্টি করছে। ভোটার তালিকায় নাম তোলার নামে তারা মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আসল উদ্দেশ্য হল, এসব সমস্যায় ফেলে মূল সমস্যা থেকে মানুষের মন ঘুরিয়ে রাখা।
মালদহ জেলায় ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জন ভোটারের নাম অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় আছে। ঈশা এদিন দাবি করেন, প্রশাসন সমস্ত রাজনৈতিক দলকে অ্যাডজুডিকেশনের তালিকা দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে সুজাপুর বিধানসভায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৫১৮, রতুয়ায় ১ লক্ষ ৪ হাজার ৪৮৫, মালতীপুরে ৯৪ লক্ষ ৭৩৭, হরিশ্চন্দ্রপুরে ৯১ হাজার ৯৭৮, মোথাবাড়িতে ৭৯ হাজার ৬৮২, চাঁচলে ৭৩ হাজার ৮৯৮, বৈষ্ণবনগরে ৬৮ হাজার ৭৮৭ জন ভোটারের নাম অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় রয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিজেপির দখলে থাকা হবিবপুরে মাত্র ৭ হাজার ৭৭৭, গাজোলে ৩২ হাজার ৩৯১, মালদহে ৩৬ হাজার ৫৫৭ এবং ইংলিশবাজার বিধানসভায় ৩৭ হাজার ৭৭৫ জন ভোটারের নাম বিচারাধীন তালিকায় আছে।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেস নেত্রী মৌসম নুর অভিযোগ করেন, এই তালিকা দেখে বুঝতে পারছি, শুধুমাত্র বিভাজনের রাজনীতি করার জন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৭০ শতাংশ মানুষের নাম বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে। তাতে ৩০ শতাংশ হিন্দুরাও আছেন।
ঈশা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কংগ্রেস মহাত্মা গান্ধীর পার্টি। আমরা কোনো অশান্তি করি না। যতক্ষণ পর্যন্ত এই আট লক্ষের বেশি ভোটারের বিষয়টির নিষ্পত্তি না হবে, নির্বাচন ঘোষণা করা যাবে না। এই দাবিতে ৫ মার্চ থেকে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে আমাদের অবস্থান, বিক্ষোভ কর্মসূচি চলবে।