• এনবিএমসি’র অক্সিজেন প্লান্ট দেড় মাস ধরে বন্ধ, অন্ধকারে অ্যাডিশনাল সুপার
    বর্তমান | ০৩ মার্চ ২০২৬
  • সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: প্রায় দেড় মাস ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অক্সিজেন প্লান্ট। হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়টি জানাই ছিল না। সোমবার এ ব্যাপারে হাসপাতালের অ্যাডিশনাল সুপার ডাঃ নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তারপর অক্সিজেন প্লান্টের দায়িত্ব থাকা বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে বিষয়টি জানতে চান তিনি। তারা জানায়, বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে বিষয়টি কলকাতায় স্বাস্থ্যদপ্তরে ই-মেল করে জানানো হয়েছে একমাস আগে, এখনও কোনো উত্তর আসেনি।

    হাসপাতালের সমস্যা অথচ সুপারের দায়িত্বে থাকা অ্যাডিশনাল সুপারকে তা জানানো হয়নি। স্থায়ী সুপার প্রিন্সিপালের দায়িত্ব নেওয়ায় অ্যাডিশনাল সুপারকে সুপারের আংশিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডাঃ নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সুপারের আংশিক দায়িত্ব প্রায় এক বছর হল আমাকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাকে জানানো হয়নি কী কী আমাকে দেখতে হবে। অক্সিজেন প্লান্ট দেখার দায়িত্ব সুপারের। আমাকে তা জানানো হয়নি। এর মধ্য দিয়ে ফের ধরা পড়ল, অভিভাবকহীন উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চূড়ান্ত অবব্যবস্থার দিকটি।

    এদিকে, অক্সিজেন প্লান্ট বন্ধ থাকার ফলে দিনে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ নষ্ট হচ্ছে। করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় অক্সিজেন সংকট দেখা দেওয়ায় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যই রাজ্যজুড়ে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলিতে অক্সিজেন প্লান্ট বসানো হয়েছিল। এই প্লান্ট চালু হওয়ার সময় হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছিল, প্লান্টের অক্সিজেন পাওয়ায় মাসে ১০০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার কম কিনতে হবে। কিন্তু পরবর্তীতে অক্সিজেন প্লান্টের উৎপাদিত অক্সিজেন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নানা ধরনের অব্যবস্থা, অনীহার অভিযোগ ওঠে।

    বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারদের কাছ থেকে গোটা বিষয়টি জেনে ডাঃ নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, উৎপাদিত অক্সিজেনের বিশুদ্ধতা কমে যাওয়ার কারণে প্লান্টের অক্সিজেন কাজে লাগানো যাচ্ছিল না। বিষয়টি স্বাস্থ্যদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানানো হয়েছে প্রায় একমাস আগে। এই প্লান্টের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এজেন্সিকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। উৎপাদিত অক্সিজেনের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করে দেখার জন্য তাদের কাছে নমুনা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে তাদের টাকা বকেয়া থাকায় তারা সেই কাজ এখনো করেনি। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনবেন বলে জানান।
  • Link to this news (বর্তমান)