এই সময়, খড়্গপুর: দুই নাবালিকার (Minor Girl) সঙ্গে দিন কয়েক আগে ফেসবুকে (Facebook) পরিচয় হয়েছিল দুই তরুণের। তারপরে চলে মোবাইল নম্বর দেওয়া–নেওয়া। গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। দুই নাবালিকার বাড়ি একই পাড়ায়। প্রেমের টানে দুই নাবালিকা বাড়ি ছেড়ে সোমবার ওই দুই তরুণের সঙ্গে পালানোর পরিকল্পনা করে। তরুণেরাও গাড়ি ভাড়া করে হাজির। কিন্তু স্কুলের পোশাক পরা ছাত্রীদের দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। তার মধ্যে গাড়িও চলছে দ্রুত গতিতে। রাস্তায় চলা সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা মারার মতো অবস্থা হয়। তখনই গাড়িটিকে উদ্দেশ করে চিৎকার করেন সাইকেল আরোহী। নজর পড়ে স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা মোবাইলে চারিদিকে খবর দিতে শুরু করেন। গাড়িটির পিছু নিয়ে তা থামিয়ে ঘিরে ফেলেন গ্রামের বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ এসে চার জনকেই উদ্ধার করে। সবংয়ের ঘটনা। তবে এই ঘটনায় এখনও কোনও অভিযোগ হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ না পেলে দুই নাবালিকাকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। দুই নাবালিকার মধ্যে একজন নবম শ্রেণির ছাত্রী আর অন্য জন দশম শ্রেণিতে পড়ে। দু’জনের বাড়ি একই গ্রামে। তাদের সঙ্গে সবং থানারই অন্য গ্রামের দুই তরুণের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। কিন্তু আঠারো বছর না হলে যে বিয়ে হবে না, তা ঠাওর করতে পারেনি কেউই। তা ছাড়া এ বিয়ে বাড়িতে মানবে কি না, তা নিয়েও ছিল সংশয়। কারণ, ১৮-২০ বছরের দুই তরুণ বেকার। তাই পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। সেই মতো দুই তরুণ একটি গাড়ি ভাড়া করেন।
স্কুল শুরুর আগেই পৌঁছে যায় আগে থেকে ঠিক করে রাখা স্থানে। স্কুল যাবে বলে বেরিয়েছিল দুই নাবালিকা। তারা সোজা উঠে পড়ে গাড়িতে। তারপরেই দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে এক সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা মারার পরিস্থিতি হয়। বহু কষ্টে সাইকেল আরোহী নিজেকে বাঁচিয়ে চিৎকার শুরু করেন। গাড়ির মধ্যে স্কুলের পোশাকে কেন দুই ছাত্রী? এই প্রশ্নেই গাড়িটি ঘিরে ফেলেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর প্রশ্নের উত্তরে কেউ সদুত্তর দিতে না পারায় থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ চালক-সহ তিন যুবক এবং দুই ছাত্রীকে থানায় নিয়ে যায়। খবর দেওয়া হয় সবার বাড়িতে।