ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) হত্যার ঘটনায় কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি নরেন্দ্র মোদী সরকার। প্রধানমন্ত্রীর এই মৌনতাকেই কটাক্ষ করলেন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi)। বাজপেয়ী আমলে ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও কাশ্মীর (Kasmir) ইস্যুতে ভারতের প্রতি তেহরানের (Tehran) সমর্থনকে মনে করিয়ে নয়াদিল্লির বিদেশ নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন তিনি।
মঙ্গলবার কংগ্রেস সভানেত্রীর কথায়, প্রধানমন্ত্রীর এই নীরবতা আসলে নিরপেক্ষতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের নিজস্ব অবস্থান ত্যাগ। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, খামেনেইয়ের মৃত্যুতে কেন্দ্রীয় সরকার কোনও বিবৃতি জারি না করায় এবং পশ্চিম এশিয়ায় সংযম ও উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান করার মধ্যেই নীরবতা স্পষ্ট। এ প্রসঙ্গে ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সুসম্পর্কের কথা মনে করিয়ে সনিয়া লিখেছেন, ‘১৯৯৪ সালে মুসলিম দেশগুলির জোট ‘ওআইসি’ (Organisation of Islamic Cooperation) রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশনে কাশ্মীর নিয়ে ভারত-বিরোধী প্রস্তাব উত্থাপন করে। কিন্তু সেই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বন্ধুত্বের মান রাখে ইরান। সেই সময়ে ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রাথমিক পর্যায় চলছিল। কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হলে দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান আরও জটিল হয়ে উঠতে পারত।’
কংগ্রেস সভানেত্রীর মতে, সে সময়ে তেহরান নয়াদিল্লির পাশে না দাঁড়ালে ভারতের অভ্যন্তরীণ কাশ্মীর সমস্যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াত এবং তা সংবেদনশীল রূপ ধারণ করত। ইরানের কারণেই সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
সনিয়ার কথায়, ‘১ মার্চ, ইরান নিজে জানিয়েছে যে তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে যৌথ হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। চুক্তি নিয়ে আলোচনার মাঝখানে একজন ক্ষমতায় থাকা রাষ্ট্রপ্রধানের হত্যা সমসাময়িক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুতর ফাটল চিহ্নিত করে। অতীতে ভারতের স্বার্থরক্ষায় এগিয়ে আসা ইরানের দুর্দিনে নয়াদিল্লির অবস্থান ও নীরবতা যথেষ্ট উদ্বেগজনক এবং বিরক্তিকর। এই ক্ষেত্রে নীরবতা নিরপেক্ষ নয়। এটি আমাদের বিদেশ নীতির দিকনির্দেশনা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহের জন্ম দেয়।‘
এ ছাড়া কংগ্রেস সভানেত্রীর স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে, প্রাক্তন বিজেপি প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী তেহরান সফরের কথা। সে সময়ে তিনি ইরানের সঙ্গে ভারতের শক্তিশালী এবং আধুনিক সম্পর্কের কথা সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন।
উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় (Middle East Crisis) যুদ্ধ নিয়ে ভারত স্পষ্ট অবস্থান বুঝিয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) রবিবার এবং সোমবার টেলিফোনে কথা বলেছেন, ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ জায়েস আল নাহায়েনের সঙ্গে। এ ছাড়া গাল্ফ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।