এই সময়, সিউড়ি: তাঁর নাম কমিশন প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় (Final Voter List) বিচারাধীন হিসেবে রয়েছে। স্ত্রীর ক্ষেত্রেও তাই। সেই আতঙ্কে মৃত্যু হলো বীরভূমের সিউড়ি-২ নম্বর ব্লকের আলুন্দা পঞ্চায়েতের ধল্লা গ্রামের যুবক শেখ কামরুল (২৮)-এর। পরিবারের দাবি, বিচারাধীন তালিকায় নাম দেখে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। যদিও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন ব্রেন স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। সোমবার এই ঘটনা ঘটেছে। ধল্লা গ্রামের বাসিন্দা কামরুল পেশায় দিনমজুর। বাড়িতে রয়েছে বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই নাবালক সন্তান। বাড়ির মূল উপার্জনকারী ওই যুবক।
পরিবারের দাবি, রবিবার সরকারি অফিস থেকে নিজের নামের উপরে বিচারাধীন লেখা দেখে আতঙ্কিত হন তিনি। সেই কথা পরিচিতদের বলেন। বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার আশঙ্কাও করছিলেন। দুশ্চিন্তায় পড়েন কামরুল। যুবকের মায়ের দাবি, দেশ ছাড়া হওয়ার আশঙ্কা করছিল ছেলে। বাড়ি ফিরে তিনি বলেছিলেন-মাথাযন্ত্রণা করছে। মৃতের মা জানজাহারা বিবির অভিযোগ, 'সার প্রক্রিয়ায় অনেক দিন ধরে চাপে ছিল ছেলে। মাথাব্যথাও ছিল। রবিবার রাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। সিউড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার বলেন, স্ট্রোক হয়ে থাকতে পারে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু বর্ধমান নিয়ে যাওয়ার আগেই সব শেষ।' মৃত যুবকের পরিবারের দাবি, কামরুল শিক্ষিত যুবক হওয়া সত্ত্বেও এই প্রশাসনিক পরিভাষাটি তাঁকে আতঙ্কিত করে তুলেছিল। সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে তিনি বঞ্চিত হবেন বলে মনে করেছিলেন।
সিউড়ি-১ পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের (TMC) কর্মাধ্যক্ষ আরিফ হোসেন বাপ্পা বলেন, 'ধল্লা গ্রামে ২৩০ জনের নাম বিচারাধীন। তাঁরা আতঙ্কিত। একটি কর্মঠ যুবক মারা গেলেন। এর দায় কমিশন, বিজেপি এড়াতে পারে না।' কামরুলের বাবা প্রতিবন্ধী। এই অবস্থায় দল কামরুলের পরিবারের পাশে দাঁড়াবে বলে জানান আরিফ। অন্য দিকে, বিজেপির কটাক্ষ, অসুস্থ হয়ে কারও মৃত্যু হলে তা 'সার'-এর কারণে বলে অভিযোগ করা তৃণমূলের অভ্যেসে দাঁড়িয়েছে। বিজেপি নেতা দীপক দাস বলেন, 'যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। কিন্তু এ নিয়ে রাজনীতি আরও বেশি দুঃখের।'