ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে দোল। রঙের উৎসব এ বার আরও বেশি রঙিন। ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে রঙের উৎসবে মাতলেন বাংলার নেতারা। ভবানীপুরে শুভেন্দুর কীর্তন, হিন্দুত্বের বার্তা থেকে সুজিত-শোভনদেবের রং খেলা—রাজনীতিকদের রঙে রঙিন দোলযাত্রা ২০২৬। দোল মানেই জনসংযোগের মোক্ষম সুযোগ। আর তা যদি হয় ভোটের আগে, সে সুযোগ কি আর নেতা-মন্ত্রীরা ছাড়েন?
সকাল সকালই রাজ্যবাসীকে দোলের শুভেচ্ছা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। লেখেন, ‘ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল, লাগল যে দোল। সকলকে জানাই শুভ দোলযাত্রার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শান্তির দোল ও হোলি আনুক মানুষের পবিত্র সম্প্রীতি।’ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Abhishek Banerjee) সোশ্যাল পোস্টে সকলকে দোল ও হোলির শুভেচ্ছা জানান। তিনি লেখেন, রং যখন কাউকে স্পর্শ করে, কারও নাম, জাতি, ভাষা জানতে চায় না। সকলকে সমান ভাবেই আপন করে। দোলযাত্রা ও হোলি সকলকে মনে করিয়ে দেয়, একতাই সব থেকে বড় শক্তি। সম্প্রীতি রক্ষা সকলের কর্তব্য।
ভোটের মুখে ভবানীপুরে জনসংযোগ বাড়িয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যে কেন্দ্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এ নিয়ে নানা মহলে নানা চর্চাও শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দোলের সকালে সেই ভবানীপুরেই দেখা গেল তাঁকে। শোভাযাত্রায় অংশ নেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি বার্তা দেন, ‘নাস্তিকতা নিপাত যাক, সেক্যুলারিজ়ম নিপাত যাক। হিন্দু জাগরণ হোক।’ এর পরেই শুভেন্দুর গলায় শোনা যায়, ‘হরি হরায় নমঃ কৃষ্ণ যাদবায় নমঃ।’ গেরুয়া আবিরের পাশাপাশি উড়তে থাকে গেরুয়া ধ্বজাও।
অন্যদিকে এত দিন রাসবিহারী এলাকায় জনসংযোগে দেখা যেত মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। আজ তিনি গলায় গাঁদার মালা, গালে আবির ছুঁইয়ে ঘুরছেন বালিগঞ্জের পথে পথে। এখানেও কি রাজনীতির চমক? কারণ, বালিগঞ্জের বিধায়ক বাবুল সুপ্রিয়কে এ বার রাজ্যসভায় পাঠাতে চাইছে তৃণমূল। ভোটের বাজারে জোর জল্পনা শোভনদেবকে খড়দহ থেকে ফেরানো হবে দক্ষিণ কলকাতায় এবং এও জল্পনা, বালিগঞ্জের প্রার্থী হতে পারেন তিনি।
যদিও শোভনদেবের বক্তব্য, ‘দল আমাকে যখন যেখানে পাঠায়, সেখানেই যাই। রাসবিহারী, আলিপুর, ভবানীপুর, খড়দহ সব জায়গাতেই আমি গিয়েছি।’ আর প্রার্থিপদের জল্পনা নিয়ে শোভনদেবের বক্তব্য, ‘যতক্ষণ না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী ঘোষণা করছেন, ততক্ষণ আমি নিজেকে প্রার্থী বলব না। এটা আমার লাইফের ডিসিপ্লিন। মমতা বলেছেন বালিগঞ্জ কেন্দ্রটা একটু দেখুন, আমি সেটাই দেখছি।’
লেকটাউন শ্রীভূমি এলাকায় এ দিন লাল পাঞ্জাবি পরে রঙিন হলেন রাজ্যের আরও এক মন্ত্রী সুজিত বোস। তবে ভোটের জন্য দোলে বিশেষ জনসংযোগ কথায় সায় নেই তাঁর। সুজিতের দাবি, ভোট ভোটের মতো হবে। সে সব নিয়ে ভাবেন না তিনি। সারা বছর মানুষের সঙ্গে থাকলে নতুন করে ভোট নিয়ে ভাবতে হয় না, বিশ্বাস সুজিতের।
দোলে পরিবার ও পড়শিদের সঙ্গে রং খেললেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। রাজ্যবাসীকে দোলের শুভেচ্ছা জানান তিনি। রঙে জমজমাট সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারও। রঙিন সজল ঘোষ জানান, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সকলে মিলিত হওয়ার দিন আজ।