এই সময়, বর্ধমান: রাজা নেই, নেই তাঁর রাজ্যপাট। তবে তাঁর নির্দেশ আজও বহন করে চলেছেম শহর বর্ধমানের বাসিন্দারা। গোটা দেশের সঙ্গে দোল উৎসবে মাতেন না বর্ধমানের বাসিন্দারা। শহরবাসী রং খেলা বা হোলিতে (Holi Festival) মাতেন তার ঠিক একদিন পরে। বর্ধমান মহারাজার প্রচলিত এ প্রথা আজও অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয়।
আজ, মঙ্গলবার রঙের উৎসবে যখন মেতে উঠবে গোটা দেশ, ব্যতিক্রম বর্ধমান। এ বারও তাঁরা বুধবার সকালে স্বাগত জানাবেন বসন্তোৎসবকে। প্রায় ৩৫০ বছরের এই প্রথা অনুযায়ী এ বারও রাজবাড়ির কুলদেবতা লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ-এর মন্দিরে থাকা ঠাকুরের পায়ে ফুল–আবির দেওয়া হবে মঙ্গলবার। বিভিন্ন বই ও বর্ধমান শহরের ইতিহাস গবেষকরা জানিয়েছেন, রাজ–আমলে লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ-এর মন্দিরে দোলের দিন পুজো শুরু হতো সকাল থেকে। সেই পর্ব শেষ হতে দুপুর গড়িয়ে যেত। ফলে রং খেলার কোনও সুযোগ থাকত না রাজ পরিবারের সদস্যদের। রাজা মহাতাব চাঁদের নির্দেশে হোলির পরের দিন রং খেলার আয়োজন করা হয়। সেই থেকেই চলে আসছে এই রীতি।
ইতিহাসবিদ সর্বজিৎ যশ বলছিলেন, ‘বর্ধমানের মহারাজারা বৈষ্ণব ভাবনায় প্রভাবিত হয়ে এখানে বেশ কিছু মন্দির করেছিলেন। মোহন্তস্থল, রাধাবল্লভ, পেয়ারি বল্লভ, গোপাল জিউ, শ্যামসুন্দর কেশব রায় ইত্যাদি মন্দির শহরে তৈরি হয়েছিল। যে হেতু আমরা দোল বলি, এটা দেবতার দোল। তাই রাজ পরিবারের সদস্যরা মনে করেছিলেন, যে দিন দেবতার দোল, সেই দিনে মানুষের দোল খেলা উচিত নয়। তাই প্রথম দোলের দিন বিভিন্ন মন্দিরে পুজো হতো। পরের দিন সাধারণ মানুষের দোল খেলার সূত্রপাত মহাতাব চাঁদের সময়ে।’
রাজবাড়ির অন্দরমহলে সেই নির্দেশ মহাতাব চাঁদ জারি করেছিলেন। পরে সেটাই প্রথায় পরিণত হয়। পরবর্তী সময়ে রাজা আফতাব চাঁদ, বিজয় চাঁদ একই রীতি পালন করেছেন। এখন শুধু বর্ধমান শহর নয়, আশপাশের বেশ কিছু এলাকাতেও হোলি পূর্ণিমার পরের দিন রং খেলা হচ্ছে। রাজ পরিবারের পুরোহিত সুমনকিশোর মিশ্র বলেন, ‘এই প্রথা শুরু হয়েছিল প্রায় ৩০০ বছরেরও আগে। পূর্বজদের কাছে শুনছি রাজবাড়ির দোলযাত্রার ইতিহাস। এখন রাজা নেই, নেই রাজ্যপাট। কিন্তু রীতি মেনেই চলে আসছে হোলি পূর্ণিমার পরের দিন রং খেলা।’