• পুরুলিয়া, আরামবাগ ও বাঁকুড়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে শুরু রুটমার্চ
    বর্তমান | ০৩ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও আরামবাগে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে এসেছে। তার মধ্যে বাঁকুড়ায় মোতায়েন হচ্ছে ১৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। রবিবার রাতে জেলায় সাত কোম্পানি বাহিনী এসে পৌঁছায়। আজ, মঙ্গলবারের মধ্যে আরও সাত কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী জেলায় ঢুকবে। বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে সোমবার থেকেই পুলিশ আধিকারিকরা রুটমার্চ শুরু করেছেন। এদিন বাঁকুড়া সদর, ওন্দা, বড়জোড়া, বিষ্ণুপুর, ইন্দপুরে বাহিনী রুটমার্চ করেছে।

    আরামবাগ মহকুমার আরামবাগ শহর ও খানাকুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী রুটমার্চ করে। এত তাড়াতাড়ি বাহিনী মোতায়েন নিয়ে বিজেপিকে তৃণমূল কটাক্ষ করেছে। পদ্ম শিবিরও পাল্টা রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করেছে।

    প্রার্থী ঘোষণা না হলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে শাসক-বিরোধী সব পক্ষই ঘর গোছাতে শুরু করেছে। প্রার্থীর নাম ছাড়াই বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় দেওয়াল লিখন চলছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ায় রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা অতীতে তেমন ঘটেনি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলায় খুনও কয়েক বছরে হয়নি। ভোটের দিন ছোটোখাটো গণ্ডগোলের ঘটনা ঘটলেও তা দ্রুত পুলিশ নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এসআইআরের কারণে এবারের নির্বাচন অন্যরকম হতে চলেছে। ফলে পুলিশও কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। কমিশন ও রাজ্য পুলিশের নির্দেশমতো জেলার স্পর্শকাতর এলাকায় বেশি করে রুটমার্চের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তুলনামূলকভাবে উপদ্রুত এলাকার কাছাকাছি স্কুল, কলেজে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার চেষ্টা চলছে। ভোটারদের আস্থা জোগানোর পাশাপাশি নির্বাচনের আগে গণ্ডগোল হলে পুলিশকে সাহায্য করার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রস্তুত থাকবে।

    বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশমতো বাহিনী মোতায়েন করা হবে। জেলার তিন মহকুমা এলাকাতেই যাতে বাহিনী রুটমার্চ করে তা দেখা হচ্ছে। বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদার বলেন, বিজেপি নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে ভোটে জিততে চাইছে। এসআইআরে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়েও ওরা ক্ষান্ত হচ্ছে না। এখন কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে মানুষকে চমকাতে চাইছে।
    বিজেপি-র বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে। বাহিনী থাকলে সকলে নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারবেন। বাহিনী থাকলে তৃণমূল ভোট লুট করতে পারবে না। সেই কারণেই জওয়ানদের দেখে ওদের গাত্রদাহ হচ্ছে।

    সোমবার সড়ক পথে রাঁচি থেকে এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পুরুলিয়ায় আসে। তাদের এমএসএ ইনডোর স্টেডিয়ামে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ছত্রিশগড় থেকে একটি ট্রেনে কেন্দ্রীয় বাহিনী পুরুলিয়া স্টেশনে এসে পৌঁছায়। বাঘমুণ্ডি, কোটশিলা ও ঝালদার কলমা অঞ্চলে কেন্দ্রীয় বাহিনী রুটমার্চ করে।

    সোমবার আরামবাগ শহর সহ খানাকুলের নানা স্পর্শকাতর বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী রুট মার্চ করে। তাতে আশ্বস্ত হয়েছেন ভোটাররা। এদিন আরামবাগ শহরে এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে রুটমার্চ করা হয়। পল্লিশ্রী থেকে আরামবাগ শহরের বিভিন্ন পথে চলে রুটমার্চ। খানাকুলেও জয়রামপুর, রাউতখানা গ্রামে টহল দেয় বাহিনী। এসডিপিও বলেন, ভোটের আগেও বিভিন্ন সময়ে আমরা পুলিশ কর্মীদের নিয়ে রুটমার্চ করেছি। এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়েও রুট মার্চ করা হল। প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গায় এই কর্মসূচি চলবে।
  • Link to this news (বর্তমান)