প্রতিবাদে স্কুলের সামনে বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের, গেদের ২ বুথে বাদ পড়েছে ১৪৬ জন ভোটারের নাম
বর্তমান | ০৩ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ম্যাপড ভোটার হয়েও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বহু ভোটারকে। এর প্রতিবাদে সোমবার কৃষ্ণগঞ্জ থানার গেদের হালদারপাড়া এলাকায় স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামের বাসিন্দারা। সেখানে দু’টি বুথেই বাদ গিয়েছে ১৪৬ জন ভোটার। বাদের তালিকায় মহিলাদের সংখ্যাই বেশি। এই নিয়ে বিক্ষোভে শামিল হন গ্রামের মহিলা সহ বাসিন্দারা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোরগোল পড়ে। নাম বাদ পড়ার জন্য বিক্ষোভকারীরা বিএলও’কেই দায়ী করেছেন। গেদে এলাকার পাশাপাশি কৃষ্ণগঞ্জের মাটিয়ারি-বানপুর পঞ্চায়েতের দু’জন পঞ্চায়েত সদস্য পম্পা সেন এবং মমতা মণ্ডলের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণগঞ্জের সীমান্ত লাগোয়া গেদের হালদারপাড়া এবং মাঝেরপাড়া এলাকায় এদিন ১৭ ও ১৯ নম্বর বুথের ভোটাররা বিক্ষোভ দেখান। নাম বাদ যাওয়ার মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ মহিলা ভোটারের নাম রয়েছে। ১৭ নম্বর বুথে ৯৮ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। ১৪৩জন ভোটারকে বিচারাধীনের আওতায় রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ১৯ নম্বর বুথে ৪৮ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং বিচারাধীনের আওতায় রয়েছে ১০২ জন ভোটার। এমনকী পাশের ১৮ নম্বর বুথে ৫৪ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে ৫৯ জন ভোটার।
স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির কথায়, গ্রামের মহিলাদের সিংহভাগই ম্যাপড ভোটার। অর্থাৎ তাঁদের বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে। সেই দিয়েই ম্যাপড ভোটার হয়েছেন তাঁরা। এবার বিয়ের পর অনেক মহিলার বুথ পরিবর্তন হয়েছিল। যার ফলে তাঁরা ম্যাপড ভোটার হওয়ার সত্ত্বেও নথি জমা করতে হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের কারণে অনেক মহিলা ভোটারের নাম বাদ পড়ছে। বিক্ষোভকারী মহিলা রূপা বিশ্বাস বলেন, আমার পরিবারের আটজন সদস্য রয়েছে। তার মধ্যে চারজন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। আমাদের যদি কোথাও ভুল থাকত, তাহলে বলতে পারত যে কাগজটা সংশোধন করতে। আমরা তো শুনানিতেও গিয়েছিলাম। আমার বাবা-মা’র সকলের কাগজ দেখেছে। আমরা চাই আমাদের এই স্কুলেই নামের সংযোজন করা হোক। এখন বিএলও আমাদের সঙ্গে কোনো কথা বলছেন না। আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, আমাদের হালদারপাড়া এলাকায় ভোটার তালিকায় বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার কারণে বিক্ষোভ দেখিয়েছি। আমার পূর্বপুরুষরাও এখানে থাকতেন। আমি সমস্ত নথি দিয়েছিলাম।
১৭ নম্বর বুথের বিএলও বলেন, গ্রামবাসীরা ভাবছে আমার জন্য তাঁদের নাম বাদ গিয়েছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় অনুযায়ী যাদের নাম ঠিকঠাক ছিল, সেগুলি ম্যাপিং করতে পেরেছি। কিন্তু, যাদের বাবা-মাকে চিনি না সেগুলি ম্যাপিং করতে পারিনি। তাই সেগুলি হিয়ারিংয়ের জন্য পাঠিয়েছিলাম। সেই শুনানি অনুযায়ী তাঁদের নাম বাদ যায়।
স্থানীয় জেলা পরিষদের সদস্য কার্তিক মণ্ডল বলেন, যারা মহিলা ভোটার তাঁদের সকলের নাম ডিলিট হয়ে গিয়েছে। যারা বিবাহ সূত্রে অন্যস্থান থেকে এখানে এসেছেন তাঁদের নাম বাদ গিয়েছে। তাই গ্রামের মহিলারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাইছে তাঁদের করণীয় কী? এঁরা সকলেই এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা।
কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সমীর বিশ্বাস বলেন, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে ‘নির্যাতন কমিশনে’ পরিণত হয়েছে। মহিলা ভোট সবসময় তৃণমূলের দিকেই থাকে। এখন নির্বাচন কমিশন সেখানেই টার্গেট করেছে নাম বাদ দেওয়ার জন্য।