• বাহরিনে উৎকণ্ঠায় স্বর্ণশিল্পীরা, মাথার উপর চক্কর কাটছে যুদ্ধবিমান
    বর্তমান | ০৩ মার্চ ২০২৬
  • সংবাদদাতা, ঘাটাল: যুদ্ধর জেরে পশ্চিম এশিয়ার বাহরিনে চরম উদ্বেগের মুখে পড়েছেন ঘাটাল মহকুমার বেশ কয়েকশো স্বর্ণশিল্পী। এই মহকুমার দাসপুর, ঘাটাল ও চন্দ্রকোণা থানার অন্তর্গত গ্রামগুলির অসংখ্য যুবক সুদূর বাহারিনে সোনার অলঙ্কার তৈরির কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার অভাবে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের পরিবারের লোকজনের। দাসপুর থানার দানিকোলা গ্রামের বাসিন্দা প্রশান্ত আদকের মতো অসংখ্য কারিগর এখন সেখানে গৃহবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। প্রশান্তবাবু বলেন, আমরা খুব ভয়ের মধ্যে রয়েছি। যে কোনো সময় শেষ হয়ে যেতে পারি। তবে এই মুহূর্তে আমরা বাড়ি ফিরতে চাই না।

    ঘাটাল মহকুমার তিনটি থানা এলাকার অর্থনীতির একটা বড় অংশ আরব দেশগুলির ওপর নির্ভরশীল। মূলত সূক্ষ্ম সোনার গয়না তৈরির কাজে এই এলাকার কারিগরদের বিশ্বজুড়ে খ্যাতি রয়েছে। গত কয়েক দিনে বাহারাইনে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় বাজারঘাট প্রায় বন্ধ। মাথার উপর বিকট শব্দ করে উড়ে যাচ্ছে যুদ্ধ বিমান। তার সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য সোনার দোকানগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বহু কারিগর। প্রশান্তবাবু কয়েক বছর ধরে বাহারাইনে সোনার কাজ করছেন।

    সোমবার দুপুরে ফোনে কথা হওয়ার সময় প্রশান্তবাবু জানিয়েছেন, শনি ও রবিবার কিছুটা স্বস্তি ছিল। কিন্তু সোমবার সকাল থেকেই যুদ্ধ বিমানের যাতায়াত বেড়ে গিয়েছে। চারদিকে সাইরেনের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। রাস্তায় বেরোনো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এভাবে কত দিন চলবে জানি না।

    চাঁইপাট গ্রামের রাজু মাইতিও বাহারাইনে থাকেন। তাঁর স্ত্রী মৌমিতাদেবী বলেন, স্বামী সুযোগ পেলেই মোবাইলে আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। সে ভালো আছে। তবুও উৎকণ্ঠায় বাড়িতে হাঁড়ি চড়ছে না। প্রশান্তবাবুর বাবা রবীন্দ্র আদক বলেন, ছেলে দেশে ফিরলে ওকে আর বাইরে পাঠাব না। এতো মানসিক চাপ নিতে পারছি না।

    ওখানে আটকে থাকা স্বর্ণশিল্পীরা বলেন, পরিজনদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা গেলেও মাঝেমধ্যেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাড়ির লোকজন চরম আতঙ্কে রয়েছে। আবার অনেক শ্রমিকের পাসপোর্ট মালিকের কাছে জমা থাকায় তাঁরা চাইলেও দ্রুত দেশে ফিরতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে দুর্গত পরিবারগুলি। তাঁদের আর্জি, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাহারাইন থেকে ওই স্বর্ণশিল্পীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।

    ইতিমধ্যেই ঘাটাল মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে। বহু পরিবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন। দাসপুরের বিধায়ক মমতা ভুঁইয়া বলেন, বিষয়টি আন্তর্জাতিক। তবুও এ নিয়ে আমি রাজ্যস্তরে কথা বলছি। কিছু একটা ব্যবস্থা করতেই হবে। প্রশাসনও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
  • Link to this news (বর্তমান)