নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: উত্তর শহরতলি থেকে উত্তরের নয়া দরজা খুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে ৩ হাজার ৩৫৫ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন তিনি। দোলের প্রাক মুহূর্তে রাজ্যবাসীকে দেওয়া এটাই তাঁর সেরা উপহার। এখন দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার রাস্তা যেতে সময় লাগবে মাত্র ৪০ মিনিট। এদিন এক্সপ্রেসওয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতেই উচ্ছ্বাসে মেতেছেন এলাকাবাসী। শুধু যাতায়াত ব্যবস্থাকে সুগম করাই নয়, এই রাস্তা এলাকার আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামোকে বদলে দিতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের আশা, আগামী দিনে এই সড়ককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে কর্মসংস্থানের নতুন দিশা।
এদিন বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগস্থলে পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে সাংসদ পার্থ ভৌমিক, মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ব্রাত্য বসু, বিধায়ক নির্মল ঘোষ, মদন মিত্র সহ স্থানীয় পুরসভার জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর এখানেও আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতে কেটে এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করা হয়। এখন বেলঘরিয়া ও কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের জংশন থেকে কাঁচরাপাড়ার কাঁপা মোড় হয়ে বড়ো জাগুলিয়া পর্যন্ত পৌঁছানো যাবে ন্যূনতম সময়ে। ৪৫ কিমি দীর্ঘ ছ’ লেনের এই সড়কে কোনও ট্রাফিক সিগন্যাল নেই। রাস্তার মাঝে রয়েছে এলিভেটেড করিডর বা ছয় লেনের আন্ডারপাস। ফলে একবার কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ধরলে বাধাহীনভাবে ছুটবে গাড়ি। বেলঘরিয়া-কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের জংশন থেকে বড়ো জাগুলিয়া পর্যন্ত এই রাস্তার উপর তৈরি হয়েছে ১১ কিমির চারটি ফ্লাইওভার, সাতটি আন্ডারপাস, ছ’টি হালকা গাড়ি যাতায়াতের আন্ডারপাস, ৭০টি কালর্ভাট, পাঁচটি শৌচালয়, একটি ট্রাক লে-বাই এবং ৫৬টি যাত্রী প্রতীক্ষালয়। এই এক্সপ্রেসওয়ের অপর প্রান্ত যুক্ত হয়েছে গঙ্গার উপর নির্মীয়মাণ ঈশ্বর গুপ্ত সেতু ও ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের বড়ো জাগুলিয়ায়। এতে উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে কলকাতা তথা শহরতলির যোগাযোগ আরও দ্রুত ও মসৃণ হবে।
কল্যাণীর ব্যবসায়ী শুধাংশু বিশ্বাস বলেন, কলকাতা থেকে এবার আমরা খুব সহজেই কল্যাণীতে ফিরতে পারব। পণ্য পরিবহণের খরচও অর্ধেক হয়ে যাবে। শুধু আমাদের এলাকা নয়, সড়কপথে কলকাতার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের সময় কমবে। যানজটের কারণে বিমান বা ট্রেন মিস করার দিন শেষ। বেলঘরিয়ার বাসিন্দা অনিন্দ্য দত্ত বলেন, কল্যাণী যেতে হলে আমাদের ট্রেন ছাড়া বিকল্প কিছু ভাবার সুযোগ ছিল না। কারণ, রাস্তায় যানজট, দুর্ঘটনার আশঙ্কা লেগেই থাকে। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হল। আমরা দ্রুত কল্যাণীর এইমসে পৌঁছে যেতে পারব। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ায় বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযোগ আরও মসৃণ হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সহজেই আসতে পারবেন এইমসে। পানিহাটির বাসিন্দা মোহন দে বলেন, এই এক্সপ্রেসওয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিয়েছে। এখন এই এলাকায় জমির দাম ২০ গুণ বেড়ে গিয়েছে। রাস্তার দু’পাশে মেডিকেল কলেজ, লজিস্টিক হাব ইত্যাদি গড়ার জন্য বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান জায়গা কিনছে। বি টি রোডের দু’দিকে শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেই শিল্প ও কর্মসংস্থানের খরা মেটাবে এই রাস্তা।