• ২৮ বছর লড়াইয়ের পর উঠেছিল নাম, ফের বাদ গেল ৩৭১ ভোটার
    বর্তমান | ০৩ মার্চ ২০২৬
  • অভিষেক পাল, কল্যাণী: প্রায় ২৮ বছরের লড়াই শেষে ২০০৯ সালে ভোটার কার্ড পেয়েছিলেন নদীয়ার কল্যাণী বিধানসভার কিছু বাসিন্দা। কিন্তু চলতি এসআইআর-এর জেরে ফের বাদ পড়ল ৩৭১ জনের নাম। তালিকা দেখে উৎকণ্ঠায় বহু বাসিন্দা।

    কল্যাণী বিধানসভার ১১৩ নম্বর বুথে ১০১৩ জন ভোটারের মধ্যে নাম বাদ গিয়েছে ৩৭১ জনের। এছাড়াও ২৫১ জন রয়েছেন বিচারাধীন পর্যায়ে। যা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামবাসীরা। কল্যাণী বিধানসভার কাঁচরাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনস্ত চরযাত্রাসিদ্ধি গ্রামের চর মধুসূদনপুর এলাকার ঘটনা। বাসিন্দারা বিন সম্প্রদায়ের (মাহাতো)। তাঁদের দাবি, ১৯৮১ সাল পর্যন্ত হুগলি জেলায় ভোট দিয়েছিলেন তাঁরা। তারপর হঠাৎ জানতে পারেন, ওই জেলা থেকে নাম কাটা গিয়েছে তাঁদের। তখন বলা হয়, গঙ্গার অন্য পাড়ে অর্থাৎ নদীয়া জেলার ভোটার তালিকায় উঠেছে তাঁদের নাম। কিন্তু নদীয়া জেলা প্রশাসনের কাছে এলে তাঁরা আবার জানায়, হুগলি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। চলে দীর্ঘ টানাপড়েন। বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীরা ভোটের অধিকার চেয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন। মামলা চলে দীর্ঘদিন। অবশেষে প্রায় ২৮ বছর পর ২০০৯ সালে নদীয়া জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন যৌথ উদ্যোগে ওই গ্রামের সকলের ভোটার কার্ড তৈরির ব্যবস্থা করে। তারপর স্বস্তি ফিরেছিল গ্রামে। ফের আশঙ্কার অন্ধকার।

    স্থানীয় বাসিন্দা রাজকুমার মাহাতো বলেন, নদী ভাঙনের কারণে আমরা কোন জেলার বাসিন্দা তা নিয়ে সমস্যা ছিল। ২৮ বছর লড়াই করার পর ২০০৯ সালে ভোটার হতে পেরেছি। আমাদের পূর্বপুরুষ দু’শো বছরের বেশি সময় ধরে এখানে রয়েছে। আমাদের জন্ম এই গ্রামেই। এখন এসআইআরের নাম কেটে দিয়েছে আমার তিন ভাই সহ পরিবারের ১৫ জনের। গ্রামবাসীদেরও অনেকের নাম কাটা গিয়েছে। কল্যাণী মহাকুমার এক আধিকারিক বলেন, এই বিষয়ে এখন কিছু বলা যাবে না। পরবর্তী পদক্ষেপ আইন মেনে হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)