• বিচারকরা ব্যস্ত এসআইআরের কাজে, মামলার গতি আরও শ্লথ
    বর্তমান | ০৩ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এসআইআরের জন্য বারাসত আদালতে এখন এক অদ্ভুত বাস্তবতা— এজলাস বসছে, কিন্তু মামলার গতি নেই। হাজিরা দিয়ে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে অধিকাংশ বিচারপ্রার্থী ফিরছেন পরবর্তী তারিখ নিয়ে। আদালত চত্বরে বাড়ছে অসন্তোষ।

    জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ৩৩টি বিধানসভায় বিচারাধীন ভোটার রয়েছেন পাঁচ লক্ষ ৯১ হাজার ২৫২ জন। আর সেই ভোটারদের নথি যাচাই করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য একজন করে বিচারক চাওয়া হয়েছে। কিন্তু উত্তর ২৪ পরগনায় সেই সংখ্যায় বিচারক নেই। তবে বারাসতের বিভিন্ন কোর্টের প্রায় ১৫ জন বিচারককে একযোগে এসআইআর সংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের কাজে যুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জাজ, অ্যাডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিভিল জাজ এবং অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারকরা। বিশেষ করে এডিজেএম কোর্টের আটজন বিচারকই বর্তমানে এই কাজে ব্যস্ত থাকায় বিভিন্ন মামলার শুনানি কার্যত থমকে। নিয়মিত সাক্ষ্য গ্রহণেও বিঘ্ন ঘটছে।

    আইনজীবীদের দাবি, জরুরি জামিনের আবেদন কোনওক্রমে শোনা হলেও অধিকাংশ মামলাই পিছিয়ে যাচ্ছে। আদালতে এসে নতুন তারিখ নিয়ে ফিরতে হচ্ছে মানুষকে। দূরদূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীদের অনেকেই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন— এমনিতেই বছরের পর বছর মামলা ঝুলে আছে। এখন তাতে আরও দেরি হচ্ছে।

    বারাসত আদালতের আইনজীবী সুশোভন মিত্র বলেন, প্রায় ১৫ জন বিচারক এসআইআর নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সংশ্লিষ্ট কোর্টগুলিতে নিয়মিত শুনানি চালানো যাচ্ছে না। বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিচারকদের ঘাটতি আগে থেকেই ছিল। সেই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপালে স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হওয়াই স্বাভাবিক। বারাসত আদালতের আরেক আইনজীবী ভাস্কর রায় বলেন, নির্বাচন কমিশনের খামখেয়ালিপনায় মানুষের হয়রানির শেষ নেই। বিচারকরা এসআইআরের কাজে চলে গিয়েছেন। আর মামলা ঝুলে থাকার লাইনটা লম্বা হচ্ছে। এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন। আইনজীবীদের মতে, বিচারব্যবস্থা যদি গতি হারায়, তাহলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকারে। ‘জাস্টিস ডিলেড ইজ জাস্টিস ডিনায়েড’—এই পুরনো প্রবাদই এখন ঘুরছে আদালত চত্বরে।
  • Link to this news (বর্তমান)