• প্রকৃত গ্রাহকের কাছে যাওয়ার আগেই ডেলিভারি কর্মীদের মাধ্যমে হাতবদল! কম দামে মোবাইল কিনে বিক্রি, গ্রেপ্তার ৩
    বর্তমান | ০৩ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ই-কমার্স সংস্থার অফিস থেকে ডেলিভারির জন্য মোবাইল ফোনগুলি পাঠানো হয়েছিল একটি নামী ক্যুরিয়ার কোম্পানিতে। কিন্তু তা সংশ্লিষ্ট ক্রেতার কাছে ডেলিভারি না হয়ে সোজা চলে গিয়েছে বিভিন্ন দোকানে। ওই দোকানিরা কম দামে ওই দামি মোবাইল কিনে আসল দামে বিক্রি করছে। ঠকছেন সেই ক্রেতা, যিনি ই-কমার্স সাইটে অর্ডার দিয়েছিলেন। এর পিছনে রয়েছে ডেলিভারি বয়ের হাত। ওই ডেলিভারি বয় প্যাকেট খুলে হ্যান্ডসেট বের করে কম দামে বেচে দিত বলে অভিযোগ। পুলিশ তদন্তে নেমে খিদিরপুর, হাওড়া সহ একাধিক জায়গা থেকে এমন বেশ কিছু মোবাইল ফোনের হদিশ পেয়েছে। এক দোকান মালিক সহ তিনজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে নিউ আলিপুর থানা। ক্যুরিয়ার কোম্পানির এক অভিযুক্ত ডেলিভারি বয় পলাতক।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউ আলিপুর এলাকায় ওই ই-কমার্স সংস্থার অফিস রয়েছে। তারা গত ২৯ ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য একটি ক্যুরিয়ার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে। অর্ডার হয়েছিল মোট ২৮টি মোবাইল ফোন। দামি এই হ্যান্ডসেটগুলি ডেলিভারি হওয়ার কথা ছিল ভিন রাজ্যে। ই-কমার্স সংস্থার স্টোররুম থেকে মোবাইলগুলি সংগ্রহ করে ক্যুরিয়ার সংস্থার এক ডেলিভারি বয়। বিমানবন্দরে কাস্টমস চেকিংয়ের সময় ওজন কম হওয়ায় সন্দেহ হওয়ায় ক্যুরিয়ার কোম্পানি ওই ই-কমার্স সংস্থাকে বিষয়টি জানায়। তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখে, ২৮টি মোবাইল প্যাক করা হয়েছিল। যে ডেলিভারি বয় সেগুলি নিতে এসেছিল, সে নিজেই খুলে বের করেছে মোবাইলগুলি। অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রমাণ মেলায় ওই ই-কমার্স সংস্থা ফেব্রুয়ারি মাসে নিউ আলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

    তদন্তে নেমে পুলিশ ওই মোবাইলগুলির আইএমইআই নম্বর ট্র্যাক করতে গিয়ে দেখে কেউ না কেউ সেগুলি ব্যবহার করছেন। যাঁরা এগুলি ব্যবহার করছিলেন, তাঁদের ডেকে পাঠায় পুলিশ। তাঁরা জানান, এগুলি কিনেছেন বিভিন্ন দোকান থেকে। প্রমাণ স্বরূপ ভাউচারও দেখান। বাজেয়াপ্ত করা হয় মোবাইলগুলি। জানা যায়, ভাউচারগুলি জাল। যে সব দোকান থেকে এই মোবাইলগুলি কেনা হয়েছিল, সেগুলি চিহ্নিত করা হয়। দেখা যায়, খিদিরপুর, হাওড়ার নিশ্চিন্দা সহ বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হয়েছে সেগুলি। এরপর চোরাই ফোন কেনার অভিযোগে তিনজন দোকানিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, ওই ডেলিভারি বয় এমন আরও ৩৮টি মোবাইল সেট বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করেছে।

    ধৃতদের জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, বিভিন্ন ক্যুরিয়ার কোম্পানির ডেলিভারি বয়রা ই-কমার্স সংস্থা থেকে মোবাইল তোলার পর সেগুলি বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করে দিচ্ছে। অফিসকে তারা জানাচ্ছে, প্যাকেট ডেলিভারি দিতে কখনও বহুতলে উঠতে হয়, নেমে এসে দেখে বাইকে থাকা ব্যাগ উধাও। ব্যাগ চুরির মিথ্যা অভিযোগ করছে তারা। একটি চক্র এর পিছনে কাজ করছে। বিভিন্ন মোবাইলের দোকানের সঙ্গে যোগ রয়েছে তাদের। তারা কম দামে মোবাইলগুলি বিক্রি করে দিচ্ছে দোকানে। কম টাকায় দামি সেট মেলায় অনেকেই তা কিনে বাজারমূল্যে বেচে দিচ্ছেন। একারণে দোকান মালিকরা ভুয়ো ইনভয়েস বানিয়ে ধরিয়ে দিচ্ছেন ক্রেতাদের। কারা এই চক্রে রয়েছে, তাদের খোঁজ চলছে।
  • Link to this news (বর্তমান)