নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বনগাঁ, বসিরহাট: এসআইআর করে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে ‘রোহিঙ্গা’ ছেঁটে ফেলার বার্তা দিয়েছিল বিজেপি। তাদের দাবি ছিল, এ রাজ্য নাকি রোহিঙ্গায় ভরে গিয়েছে! কিন্তু শনিবার নির্বাচন কমিশন প্রথম পর্বের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর গেরুয়া শিবিরের ওই দাবি নস্যাৎ হতে বসেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কত রোহিঙ্গার নাম বাদ গেল, আতস কাচ খুঁজতে হচ্ছে সেই তথ্য। উলটে বাদ যাচ্ছে বিজেপির নেতানেত্রীদেরই নাম। বাগদার বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যা কবিতা বাইন তেমনই একজন। তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে তুমুল রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপির পাতা ফাঁদ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না তাদের দলের সদস্যরাই। যদিও কবিতাদেবীর অভিযোগ, তৃণমূলি বিএলওদের ষড়যন্ত্রে তাঁর নাম বাদ গিয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা যায়, কবিতা বাইনের নাম সেখানে নেই। এ বিষয়ে কবিতাদেবী বলেন, ‘তৃণমূল এবং সিপিএম চক্রান্ত করে ভোটার তালিকা থেকে আমার নাম বাদ দিয়েছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার বাবা-মার নাম রয়েছে। আমার বাবা-মার সঙ্গে ভোটার তালিকার লিংক বিডিও নিজে দেখে গিয়েছিলেন।’ বাগদার পঞ্চায়েত প্রধান তথা তৃণমূল নেতা সঞ্জিত সর্দার বলেন, ‘এসআইআর এখন বিজেপির কাছে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।’ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে সোমবার রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান মতুয়ারা। বাগদার হেলেঞ্চা ত্রিকোণ পার্কে বিক্ষোভে শামিল হন তাঁরা।
এদিকে, অশোকনগরে বিজেপির ২ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি প্রদ্যুৎ টিকাদারের নাম বাদ পড়ে গিয়েছে। বিড়া-রাজীবপুর পঞ্চায়েতের সিপিএম সদস্য প্রহ্লাদ কুণ্ডুর নামও বাদ পড়েছে। এসআইআরে বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া ও নাগরিক হয়রানির প্রতিবাদে এদিন সন্দেশখালিতে বিক্ষোভ দেখায় সিপিএম। সন্দেশখালি ২ এরিয়া কমিটির ডাকে প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়। এদিন সকাল ১০টায় ফেরিঘাট থেকে সন্দেশখালি বিডিও অফিস, বিএলআরও অফিস, থানা ও পোস্ট অফিসের সামনে দিয়ে যায় মিছিল। পথ অবরোধ করে বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ চলে। উপস্থিত ছিলেন সন্দেশখালি ২ এরিয়া কমিটির সম্পাদক বিলাস বর্মন, এরিয়া কমিটির সদস্য সুভাষ সর্দার সহ একাধিক নেতা। বিলাস বর্মন বলেন, ‘যে সম্প্রদায়ের হোক না কেন, বৈধ ভোটারকে হেনস্তা মেনে নেওয়া হবে না।’