• ডুবিয়েছিল আলু, এবার লাউ চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন বাদুড়িয়ার কৃষকরা
    বর্তমান | ০৩ মার্চ ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বসিরহাট: লাউচাষ করে লাভের মুখ দেখছেন বাদুড়িয়ার রামচন্দ্রপুর এলাকার কৃষকরা। নীচু জলা জমিতে বাঁশের মাচান দিয়ে তার উপরেই চলছে লাউ চাষ। আগে এইসব জমিতে আলুচাষ হতো। কিন্তু তাতে প্রতিবারই লোকসানের মুখে পড়তে হতো এলাকায় কৃষকদের। কখনো কখনো অকাল বৃষ্টির কারণে মাটির নীচেই পচে যেত বিঘার পর বিঘা জমিতে চাষ করা আলু। আবার কখনো আলুর বেশি ফলন হলে বাজারে চাহিদা না থাকায় সার ও কীটনাশকের দামও উঠত না। এখন আলুর বিকল্প হিসাবে জায়গা করে নিয়েছে লাউ। স্থানীয় কৃষক আজিজুল ইসলাম জানালেন, গত মরশুম থেকে তিনি লাউচাষ শুরু করেছেন। তাঁকে দেখে উৎসাহিত হয়ে আরও কয়েকজন কৃষক এই লাউচাষ করেই চলতি মরশুমে করে লাভের মুখ দেখেছেন।

    তাছাড়া এই চাষে সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন কম। অন্যান্য সবজির তুলনায় শ্রম কম লাগে, লাভও হয় বেশি। এনিয়ে স্থানীয় এক লাউ ব্যবসায়ী রাশেদ আলি বলেন, লাউয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাছাড়া জেলার গণ্ডি পেরিয়ে বিহারের বাজারেও এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিহারের বাসিন্দারা একে স্থানীয় ভাষায় লকি বলে থাকেন। দিল্লি ও আগ্রাতেও লাউয়ের চাহিদা রয়েছে। সেখানকার বাসিন্দারা বিশেষ পদ্ধতিতে লাউ দিয়ে একটি মিষ্টি তৈরি করেন, যার নাম মোরব্বা। এটি বিদেশের বাজারেও বেশ জনপ্রিয়। আমরা প্রতি পিস লাউ কিনছি ১২-১৬ টাকা দামে। এরপর লাউকে সুন্দর করে খবরের কাগজ দিয়ে মোড়া হয়। তারপর সেলটেপ দিয়ে মুড়ে গাড়ি করে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়। পাইকারি বিক্রি করা হয় ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা পিস প্রতি।

    বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ তীর্থঙ্কর দাশগুপ্ত বলেন, লাউ অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর সবজির মধ্যে একটি। গরমের দিনে লাউ অবশ্যই খাওয়া উচিত। পাচনতন্ত্রের স্বাস্থ্য স্বাভাবিক রাখার জন্য নিয়মিত লাউ খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)