উত্তর হাওড়ায় পরিবার সহ প্রাক্তন কাউন্সিলারের নামও ‘বিচারাধীন’
বর্তমান | ০৩ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভোটার তালিকায় একটি শব্দ— ‘বিচারাধীন’। এই শব্দকে ঘিরেই হাওড়ার রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নাম ওই ‘বিচারাধীন’ তালিকায় দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার ও প্রাক্তন মেয়র পারিষদ গৌতম রায়। এই ঘটনায় রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ তুলে তিনি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর দাবি, শুধু প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, এর পিছনে সুপরিকল্পিত উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
সদ্য প্রকাশিত ভোটার তালিকায় গৌতম রায় সহ তাঁর পরিবারের মোট সাতজনের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিষয়টি জানার পরই তিনি প্রশাসনিক স্তরে অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তাঁর বক্তব্য, উত্তর হাওড়ায় দীর্ঘদিনের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরও এমন পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। ‘বাম পরিবার’ দাগিয়ে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তাঁর। এ নিয়ে তিনি হাওড়ার নিউ কালেক্টরেট ভবনে জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাবেন বলে জানিয়েছেন। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের কাছেও বিষয়টি উত্থাপন করবেন। সালকিয়ার শৈলেন্দ্র বসু রোডের বাসিন্দা গৌতম রায়ের রাজনৈতিক পরিচিতি দীর্ঘদিনের। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি হাওড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং সেই সময় পুরসভার বিল্ডিং ও অ্যাসেসমেন্ট দপ্তরের মেয়র পারিষদ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
পাশাপাশি প্রায় ৩৭ বছর অধ্যাপনা করেছেন নরসিংহ দত্ত কলেজে। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত এবং সরকারি পেনশনভোগী। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন তিনি। গৌতম রায়ের দাবি, ২০০২ সাল থেকেই তাঁর নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে। পাসপোর্ট সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ব্লক লেভেল অফিসারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম কেন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর কথায়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে পেনশনপ্রাপক ও দীর্ঘদিনের তালিকাভুক্ত ভোটারদের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ছাড়াও দাদা অমিতাভ রায় এবং তাঁর দুই সন্তানের নাম একইভাবে বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।