• শুনানিতে যাবতীয় নথি দিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় নাম ‘ডিলিট’
    বর্তমান | ০৩ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: আম জনতা থেকে প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য, মতুয়া। নাম বাদের তালিকায় চুঁচুড়ার বহু মানুষ। আবার অনেকের নাম বিচারাধীন। সব মিলিয়ে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরে উদ্বেগের আবহ তৈরি হয়েছে চুঁচুড়ায়। আশ্চর্যজনকভাবে অনেকেই শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন। দিয়েছিলেন যাবতীয় নথি। তারপরেও নাম ‘ডিলিট’ হয়েছে। যার কার্যকারণ খুঁজতে গিয়ে কার্যত কিছুই পাচ্ছেন নাগরিকরা। এই পরিস্থিতিতে শাসক-বিরোধী চাপানউতোর ভিন্নমাত্রা পাচ্ছে।

    চুঁচুড়ার সিংহীবাগানের বাসিন্দা পাপিয়া বিশ্বাস একদা কোদালিয়া ১ নম্বর পঞ্চায়েতের সদস্যা ছিলেন। সদ্য এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁকে নোটিস পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তাঁর বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের তালিকায় ছিল না। কিন্তু দাদুর নাম ছিল। সেই নথিই তিনি দিয়েছিলেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম বাদ পড়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, তাঁর বাবা-মা এবং ভাইদের নাম উঠেছে। পাপিয়াদেবী বলেন, কমিশন কী করতে চাইছে, বুঝতে পারছি না। যখন শুনানিতে গেলাম তখন বলা হল, সব ঠিক আছে। এখন দেখছি নাম নেই। চুঁচুড়ার কপিডাঙার বছর চব্বিশের অরিত্র পালের নামও ‘ডিলিট’ হয়েছে। তাঁর বাবার নাম সুশান্ত পাল। কিন্তু অরিত্রর আধার কার্ডে বাবার নাম হয়েছে সুশান্তা পাল। এনিয়েই নোটিস পাঠানো হয়েছিল অরিত্রকে। তিনি সব নথি দিলেও শেষপর্যন্ত ওই তরুণের নাম ডিলিট হয়েছে। অরিত্র বলেন, সব নথি দিয়েছি। তারপরেও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। খুবই অবাক লাগছে। আবার চল্লিশ বছর ধরে ভোট দিয়েও এবারের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে চুঁচুড়ার কদমতলার স্বপ্না কুণ্ডুর। প্রবীণা স্বপ্নাদেবী বলেন, আমার ভোটার কার্ডে বয়সের ভুল ছিল। কমিশনের কাছে আবেদন করেছিলাম। তারা ঠিক করে নতুন কার্ড দেয়। সেই কার্ডের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে আমায় শুনানিতে ডেকেছিল। এখন নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে। তাহলে কার ভুলে আমার নাম বাদ পড়ল?

    সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি মতুয়াদের নামও বিপুল সংখ্যায় বাদ গিয়েছে। চুঁচুড়ার কোদালিয়া ১ ও ২ নম্বর পঞ্চায়েতের কয়েকটি বুথে মতুয়ারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। অভিযোগ, প্রতি বুথে অন্তত ১৫ জনের নাম বাদ গিয়েছে। আর বিচারধীন হয়েছে শতাধিক নাম। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। তৃণমূল নেতা তথা মতুয়া মহাসংঘের কর্মকর্তা বিদ্যুৎ বিশ্বাস বলেন, বিজেপির মতুয়া দরদী হওয়ার চিত্র এসআইআরের পরে নগ্ন হয়ে গিয়েছে। আমরা আন্দোলন করব। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ বলেন, এসআইআর নিয়ে রাজ্য সরকার চক্রান্ত করছে। সরকারি কর্মীদের দিয়ে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। সেই সত্য সবাই জানে।
  • Link to this news (বর্তমান)