• ভোটে জিতিয়ে ‘অভারতীয়’ তকমা! নাম বাদ ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছে মতুয়ারা
    বর্তমান | ০৩ মার্চ ২০২৬
  • শ্যামলেন্দু গোস্বামী ও কুন্তল পাল: বারাসত ও বনগাঁ: এসআইআর শুরুর সময় থেকে মতুয়াগড়ে যে আগুন ধিকি ধিকি জ্বলছিল, এখন তা দাবানল হয়ে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত মিলছে! ক্ষোভে ফুঁসছে মতুয়া সমাজ। কমিশনের তরফে প্রথম পর্বের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় একটাই প্রশ্ন, ‘আমরা ভোটে জিতিয়ে ক্ষমতায় আনলাম। এখন আমরাই অভারতীয় হয়ে গেলাম!’ এসআইআরে ইতিমধ্যে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা এভাবেই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, বছরের পর বছর নাগরিকত্বের আশ্বাস দিলেও বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারের কাজে তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। উলটে নাম বাদ দিয়ে নির্বাচন কমিশন তাঁদের চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাঁদের খেদ, ‘ভোটের সময় আমরা গুরুত্বপূর্ণ। ভোট মিটে গেলেই আমরা আর কেউ নই!’ এই অবস্থায় মতুয়ারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন বলে খবর। তাতে বিজেপি সমর্থক মতুয়াদের একাংশও শামিল হতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

    এসআইআর পর্বে কার্যত বিধ্বস্ত অবস্থা মতুয়াগড় হিসাবে পরিচিত বনগাঁর। কমবেশি একই অবস্থা হাবড়া, অশোকনগরের। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন চলাকালীন মতুয়াদের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেছিলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী তথা বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। বলেছিলেন, ‘৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা-মুসলমান বাদ গেলে আমাদের (মতুয়াদের) যদি ১ লক্ষ লোক বাদ যায়, এটুকু সহ্য করে নেওয়া উচিত।’ বিজেপি প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি শান্তনুবাবুর এহেন মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়। এছাড়া, ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে মতুয়াদের জন্য সিএএ ক্যাম্প আয়োজন করেন শান্তনুবাবু ও তাঁর দাদা সুব্রত ঠাকুর। সেখান থেকে ‘নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট’ নিয়ে নিলে এসআইআরে আর কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না ভেবে আশায় বুক বেঁধেছিলেন বহু মতুয়া। কিন্তু প্রথম পর্বের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতেই যাবতীয় উদ্বেগ দ্বিগুণ হয়ে ফিরে এসেছে। গাইঘাটার বাসিন্দা দিবাকর গোলদারের কথায়, ‘আমরা ভোট দিয়ে বিজেপিকে জেতালাম। আর আমাদের ভোটের অধিকারই এখন কেড়ে নিচ্ছে তারা! কী মজার দেশ!’ বিজেপি প্রভাবিত মতুয়া মহাসংঘের নেতা সুখেন গাইন বলেন, ‘চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বেশ কিছু মতুয়ার নাম বাদ গিয়েছে ঠিকই। তবে এর জন্য রাজ্য সরকার দায়ী। রাজ্য সরকারি কর্মীরা বিএলও হিসাবে কাজ করেছেন। আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানাব, যাতে মতুয়া ও উদ্বাস্তু মানুষের ভোটার তালিকায় নাম তোলা যায়।’ আরেক বিজেপি প্রভাবিত মতুয়া নেতা শঙ্কর গাইন বলেন, ‘ভয়ের কিছু নেই। সিএএ রক্ষাকবচ আছে। এর মাধ্যমে পুনরায় নাম তুলে দেওয়া হবে।’ যদিও তৃণমূল বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুর বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে পরিচালনা করছে বিজেপি। আর বিজেপির টার্গেট মতুয়ারা। তাই যা হওয়ার, সেটাই হচ্ছে। আমরা চাই মতুয়াদের নিঃশর্ত নাগরিকত্ব।’
  • Link to this news (বর্তমান)