• মোটা অঙ্কের বিনোদন কর বকেয়া, বহু ক্লাব-রেস্তরাঁকে চিঠি পুরসভার
    বর্তমান | ০৩ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিনোদন কর বাবদ বকেয়া লক্ষ লক্ষ টাকা। সেই বকেয়া আদায় করতে কোমর বেঁধে নামল কলকাতা পুরসভা। বিনোদন কর না মেটানোর অভিযোগে শহরের একাধিক অভিজাত ক্লাব, রেস্তরাঁ, পানশালা, বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রস্তুতকারক সংস্থার আউটলেট, ব্যাঙ্কোয়েট হল সহ বিভিন্ন সংস্থাকে নোটিস পাঠানো শুরু হয়েছে। এক লক্ষ টাকা বা তার বেশি করখেলাপিরাই মূলত পুরসভার নজরে। তবে এর চেয়ে কম টাকা বাকি রাখলেও নোটিস পাঠানো হচ্ছে। পুরসভা সূত্রে খবর, লক্ষাধিক টাকা করখেলাপির তালিকায় যেমন বেলেঘাটার এক কুখ্যাত ব্যবসায়ীর অনুষ্ঠানবাড়ি, রেস্তরাঁ-পানশালা রয়েছে, তেমনই আছে শহরের বিখ্যাত একটি ফাস্টফুড প্রস্তুকতারক চেইনের একাধিক আউটলেট।

    পুরসভার বিনোদন কর (অ্যামিউজমেন্ট) বিভাগ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১০০টির বেশি নোটিস ইস্যু করা হয়েছে। পুরকর্মীরা গিয়ে করের ‘ডিমান্ড’ ধরিয়ে দিয়ে আসছেন। এরপরেও টাকা মেটানো না হলে সংশ্লিষ্ট দোকান, রেস্তরাঁ, পানশালা বা অভিজাত ক্লাবকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করে পোস্টার লাগিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।

    পুর-আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, দু’টি তালিকা বানানো হয়েছে। ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি কর বকেয়া রেখেছে যারা, তাদের একটি তালিকায় আনা হয়েছে। এক লক্ষ টাকা বা তার বেশি বকেয়া যাদের, তাদের জন্য হয়েছে আরেকটি তালিকা। এক অফিসার বলেন, ‘আমরা আপাতত এক লক্ষ টাকা বা তার বেশি করখেলাপিদের টার্গেট করেছি। তাদের আগে ডিমান্ড পাঠিয়ে নোটিস ধরানো হচ্ছে। এমন প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা বিনোদন কর বকেয়া পড়ে আছে। আবার ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি কিন্তু এক লক্ষ টাকার কম বকেয়া, এমন কিছু অভিজাত ক্লাব, রেস্তরাঁকেও নোটিস ধরানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে বকেয়া বিনোদন করের পরিমাণ ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা।’ তিনি আরও জানান, বেলেঘাটার এক কুখ্যাত ব্যবসায়ীর রেস্তরাঁর অনেক টাকাই বকেয়া রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার জন্য আরও কয়েকদিন সময় চেয়েছে। টাকা না মেটালে পুরসভা সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁ ও অনুষ্ঠানবাড়ির সামনে পোস্টার লাগিয়ে দেবে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) বিনোদন কর বাবদ পুরসভার আয় রেকর্ড গড়েছে। গতবার যেখানে সম্পূর্ণ অর্থবর্ষে (২০২৪-২৫) মাত্র আট কোটি টাকা আদায় হয়েছিল, সেখানে এবার অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই ১১ কোটি টাকা উঠে এসেছে। বছর শেষ হতে আরও এক মাস বাকি। এক অফিসারের কথায়, ‘এ বছর আরও রাজস্ব আদায় করা যেত। কিন্তু আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান, এসআইআর ও যুবসাথীর ক্যাম্পের জন্য বহু কর্মী চলে গিয়েছেন। তাই আচমকা ড্রাইভ বা অভিযান সেভাবে চালানো যায়নি। তাই আপাতত নোটিস ইস্যু করে ডিমান্ড ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
  • Link to this news (বর্তমান)