• শুরু তফসিলি সংলাপ কর্মসূচি, তৃণমূলের নজর ৮৪টি আসনে
    বর্তমান | ০৩ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৮৪টি কেন্দ্র তফসিলি জাতি, উপজাতি অধ্যুষিত। এই কেন্দ্রগুলিতে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে জনসংযোগে নয়া কর্মসূচি শুরু করল তৃণমূল। ‘তফসিলি সংলাপ’ নামে এই কর্মসূচি চলবে আগামী দুমাস। সোমবার দক্ষিণ কলকাতার নজরুল মঞ্চে একটি সাংগঠনিক সভার আয়োজন করেছিল তৃণমূল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তফসিলি জাতি, উপজাতি ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন হাজির ছিলেন ওই সভায়। ‘তফসিলি সংলাপ’ নামে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় সেখানেই। বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে আগামী ৫ মার্চ থেকে দুমাসব্যাপী এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ‘তফসিলি সংলাপ’ লেখা গাড়ি ছুটবে জেলায় জেলায়। আম জনতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উন্নয়নের কর্মকাণ্ড তুলে ধরবেন তৃণমূল নেতারা। সাধারণ মানুষের হাতে একটি পুস্তিকা তুলে দেওয়া হবে। তাতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকবে তফসিলি জাতি, উপজাতি ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কী কী উন্নয়ন করেছে। পাশাপাশি বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে তফসিলি জাতি ও উপজাতির মানুষের উপর অত্যাচারের কাহিনিও তুলে ধরা হবে।

    এই কর্মসূচির সূচনালগ্নে নজরুল মঞ্চ থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘৮৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে বিশেষ নজর দিতে হবে। দলীয় কর্মীরা সেখানে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝাবেন বিজেপি কীভাবে তফসিলি জাতি ও উপজাতি মানুষের উপর অত্যাচার করছে। ফলে বিজেপির পক্ষে ভোট দেওয়া মানে খাল কেটে কুমির ডেকে আনা। বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনা।’ ঠিক এখানেই বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে তফসিলি জাতি ও উপজাতি মানুষের উপর কত সংখ্যক অত্যাচার-নির্যাতনের ঘটনা সামনে এসেছে, তার তথ্য হাজির করেছেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, ‘তফসিলি জাতির মানুষের উপর অত্যাচারের ঘটনা হয়েছে উত্তরপ্রদেশে ১৫১৩০টি, রাজস্থানে ৮৪৪৯টি এবং মধ্যপ্রদেশে ৮২৩২টি। তফসিলি উপজাতির মানুষের উপর অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে মণিপুরে ৩৩৯৯টি, মধ্যপ্রদেশে ২৮৫৮টি এবং রাজস্থানে ২৪৫৩টি।’

    দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত। অভিষেকের অভিযোগ, কেন্দ্রের মোদি সরকার তাঁকে যোগ্য সম্মান দিচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য, ‘মোদি বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। নানা খেতাব ও পদক পাচ্ছেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতিকে কোনো পদক বা খেতাব নয়। এমনকি রামমন্দির উদ্বোধনেও রাষ্ট্রপতিকে ডাকেনি মোদি সরকার।’
  • Link to this news (বর্তমান)