মমতার ‘যুবসাথী’তে বেকায়দায় বিজেপি, যুবদের জন্য দেদার প্রতিশ্রুতি বিলি শাহের
বর্তমান | ০৩ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্প যে বিপাকে ফেলেছে বিজেপিকে, তা বেশ স্পষ্ট। আর তাই পরিবর্তন ‘রথযাত্রা’র উদ্বোধনী পর্বে বিজেপির সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অমিত শাহ এ রাজ্যের যুবদের জন্য প্রতিশ্রুতির ‘ফুলঝুরি’ জ্বালিয়ে দিয়ে গেলেন। কিন্তু এসআইআরের প্রথম পর্যায়ের চূড়ান্ত তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ মতুয়া ভোটারের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে একটিও শব্দ খরচ করলেন না। উলটে অদ্ভুত যুক্তি খাড়া করে, হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব না পাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কাঠগড়ায় তুললেন তিনি। ২০২১’এ ‘আব কী বার ২০০ পার’ বিফলে গেলেও, এবার ক্ষমতায় আসছেন তাঁরাই—নাগাড়ে প্রচার করে চলেছেন পদ্মপার্টির নেতারা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও তাই বলছেন আগাগোড়া। ‘এবার ক্ষমতায় ফিরলে তৃণমূলে ভাইপো রাজ শুরু হবে’—সোমবার রায়দিঘির মঞ্চ থেকে বিজেপি’র সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের এহেন উবাচ আক্ষেপের নাকি ফলাফলের আগাম ইঙ্গিত, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া মতুয়া ভোটারদের শেষ পর্যন্ত কী হবে, সে ব্যাপারে আশঙ্কার মেঘ তৈরি হয়েছে। শাহ তাঁদের নিয়ে কোনো আশার আলো দেখাতে না পারলেও, ক্ষমতায় এলে সব হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, ফের একই ঘোষণা করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশি হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তাঁদের এই নিয়ে চিন্তা নেই। সিএএ লাগু হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত জনা তিরিশ শরণার্থী ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন। আবেদন করেও, এখনও ঝুলে রয়েছে কয়েক হাজারের ভাগ্য। কেন নাগরিকত্ব মিলছে না? ভোট ব্যাংকের তরফে চাপ বাড়ছে বিজেপির উপর। এই প্রেক্ষিতে অমিত শাহের অদ্ভূত ব্যাখ্যা—‘এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সিএএ নিয়ে বিরোধিতা না করলে, ওরা নাগরিকত্ব পেয়ে যেতেন।’
সদ্য চালু হওয়া রাজ্যের প্রকল্প ‘যুবসাথী’কে কাউন্টার করতে ঢালাও প্রতিশ্রুতি বিলি করেছেন শাহ। বললেন, ‘যাঁদের সরকারি চাকরির বয়স চলে গিয়েছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাঁদের বয়স পাঁচ বছর ছাড় দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, যত শূন্য পদ রয়েছে, সব ডিসেম্বরের মধ্যে পূরণ করে দেওয়া হবে।’ ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য গুলিতে কি সব নিয়োগ হয়ে গিয়েছে? সেই প্রশ্নও কিন্তু তুলছেন অনেকেই। না হলে বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে দলে দলে থেকে বাংলায় রুটি-রুজির জোগাড়ে আসছে কেন!
এদিকে, স্বপ্ন ফেরি করতে গিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের ঘোষিত প্রকল্পকে বিজেপি পূরণ করবে বলে জানিয়ে গেলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। গত মাসেই রাজ্য বাজেটে সপ্তম বেতন কমিশন গড়ার ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সভামঞ্চ থেকে অমিত শাহের সদর্প ঘোষণা —‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে চালু হবে সপ্তম বেতন কমিশন।’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘোষণা করার জন্য এই তথ্য দিল কে? জল্পনা শুরু হয়েছে পদ্মশিবিরেও। এদিন নির্ধারিত সময়ের অনেকটাই পরে সভাস্থলে পৌঁছন অমিত শাহ। আধ ঘণ্টা বক্তব্য রেখেই তড়িঘড়ি বেরিয়ে যান তিনি। যে রথযাত্রা সূচনার কথা ছিল তাঁর, সুসজ্জিত সেই ‘গাড়ি’ ঠায় দাঁড়িয়ে রইল সভাস্থলে।