• মেস থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার, বেঙ্গালুরুতে কর্মরত বীরভূমের যুবকের রহস্যমৃত্যুতে শোরগোল
    এই সময় | ০৪ মার্চ ২০২৬
  • দোলের দিনই রহস্যমৃত্যু। কাজের সূত্রে বেঙ্গালুরু (Bengaluru) গিয়েছিলেন। রাতে খেয়েদেয়ে ঘুমোতে যান। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে আর ঘুম ভাঙেনি। অভিযোগ, রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু (Migrant Labours Mysteriously Death) হয়েছে গৌরসুন্দর হাজরার (৩৮)। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বীরভূমের (Birbhum) দুবরাজপুরে। ইতিমধ্যেই ছেলের মৃতদেহ আনতে বেঙ্গালুরুতে রওনা দিয়েছেন গৌরসুন্দরের বাবা শ্যামল হাজরা। ছেলে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল বলেই দাবি করেছেন তিনি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বীরভূমের দুবরাজপুর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি গৌরসুন্দরের। গত তিন বছর ধরে বেঙ্গালুরুতে থাকতেন। একটি বেসরকারি সংস্থার সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতেন তিনি। থাকতেন মেসে। সোমবার রাতে খেয়েদেয়ে ঘুমোতে যান। এ দিন সকালে কাজে যাওয়ার জন্য সহকর্মীরা তাঁকে ডাকতে গিয়ে দেখেন, অচৈতন্য অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছেন গৌরসুন্দর।

    সহকর্মীরাই সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে গৌরসুন্দরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এর পরেই দুবরাজপুরের বাড়িতে গৌরসুন্দরের মৃত্যুর খবর দেন তাঁরা। গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ভিন রাজ্যে গিয়ে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্র রৌরসুন্দরের বাড়িতে পৌঁছন দুবরাজপুর পুরসভার পুরপ্রধান পীযূষ পাণ্ডে এবং প্রাক্তন বিধায়ক নরেশ চন্দ্র বাউরি। সব রকম ভাবে মৃতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।

    ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই বেঙ্গালুরু রওনা দিয়েছেন গৌরসুন্দরের বাবা শ্যামল হাজরা। যাওয়ার আগে তিনি বলেন, ‘সকালে জানতে পারি, ওর অচৈতন্য দেহ উদ্ধার হয়েছে। বেলার দিকে হাসপাতাল থেকে মৃত্যুর খবর পাই।’ তবে গৌরসুন্দর সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন বলেই জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর দেহ পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে।

    গৌরসুন্দরের মৃত্যু রহস্যজনক বলেই মনে করছেন দুবরাজপুর পুরসভার প্রধান পীযূষ পান্ডে। তিনি বলেন, ‘একজন সুস্থ ছেলের কী ভাবে এমন মৃত্যু হলো, বুঝতে পারছি না। বিষয়টা রহস্যজনক।’ বেঙ্গালুরুর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পীযূষের কথায়, ‘আশা করছি, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে বুধবারই গ্রামে দেহ ফিরিয়ে আনতে পারব।’

  • Link to this news (এই সময়)