• দোলের মঞ্চে মন্তব্যে বিতর্ক! শুভেন্দুর বিরুদ্ধে বালিগঞ্জ থানায় এফআইআর দায়ের সিপিএমের যুব সংগঠনের
    আনন্দবাজার | ০৩ মার্চ ২০২৬
  • দোলের দিন সকালে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বালিগঞ্জ অঞ্চলের শরৎ বোস রোডে আয়োজিত এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই অনুষ্ঠানে তাঁর করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআইয়ের। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিপিএমের যুব সংগঠনের রাজ্য কমিটির নেতা সৈনিক শূর বালিগঞ্জ থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

    অভিযোগকারীর দাবি, বক্তৃতা দেওয়ার সময় বিরোধী দলনেতা “অত্যন্ত ঘৃণ্য ও সংবিধান বিরোধী মন্তব্য” করেছেন। অভিযোগকারীর বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য দেশের সংবিধানের পরিপন্থী এবং ধর্মনিরপেক্ষতার মূল চেতনাকে আঘাত করে। তিনি বলেন, “মানুষের ধর্ম পালনের অধিকার ও দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর বিরুদ্ধে এই মন্তব্য। সংবিধান লঙ্ঘনের মতো অপরাধ বরদাস্ত করা হবে না। দেশের সম্প্রীতি ও ঐতিহ্য রক্ষা করতে হবে।” এই অভিযোগের ভিত্তিতে বালিগঞ্জ থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে জানান সৈনিক। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, আগামী দিনে কলকাতা পুলিশে এ বিষয়ে আরও অভিযোগ জানানো হবে।

    প্রসঙ্গত, দোল উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, “নাস্তিকতা নিপাত যাক। সেকুলারিজ়ম নিপাত যাক। হিন্দুরা যাতে পশ্চিমবঙ্গে সুরক্ষিত থাকে এই প্রার্থনা করব।” তিনি উপস্থিত সকলকে দোলের শুভেচ্ছা জানান। এরপর ‘গোরা গোরা গৌরাঙ্গ’ গান ধরেন এবং ‘হিন্দু-হিন্দু ভাই-ভাই’ স্লোগান তোলেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। দক্ষিণ কলকাতা জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিত খটিক বলেন, “সিপিএম রাজ্য রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে সংবাদমাধ্যমে জায়গা করে নিতে এই ধরনের অভিযোগ করছে। তাঁর দাবি, বিরোধী দলনেতা বিজেপির পতাকা হাতে যে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তাতে বামপন্থীরা আতঙ্কিত। তাই তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভাবে অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন। এই ধরনের অভিযোগে শুভেন্দুদা বা বিজেপির লড়াই থামবে না। আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও সিপিএম শূন্যই থাকবে।” দোলের মঞ্চে করা বক্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক নতুন করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা ও আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে সকলের।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)