ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠুক রং, দোলের সকালে সম্প্রীতির বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও অভিষেকের
আনন্দবাজার | ০৩ মার্চ ২০২৬
দোলের সকালে দেশবাসীর উদ্দেশে শুভেচ্ছা ও সম্প্রীতির বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তিনি দোলযাত্রার শুভেচ্ছা জানান এবং উৎসবের মর্মার্থ হিসাবে শান্তি ও ঐক্যের আহ্বান জানান।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পংক্তি উদ্ধৃত করে লেখেন, ‘ওরে গৃহবাসী খোল্ দ্বার খোল্, লাগল যে দোল। স্থলে জলে বনতলে লাগল যে দোল।’ এর পরেই তিনি সকলকে শুভ দোলযাত্রার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি তাঁর বার্তায় স্পষ্ট ভাবে উঠে আসে সম্প্রীতির সুর। তিনি লেখেন, ‘শান্তির হোলি ও দোল আনুক মানুষের পবিত্র সম্প্রীতি।’ উৎসবের আবহে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্যের বার্তাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। একই দিনে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-ও নিজের এক্স হ্যান্ডলে শুভেচ্ছা বার্তা পোস্ট করেন। তাঁর বার্তায় দোল ও হোলির তাৎপর্যকে আরও বিস্তৃত সামাজিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা হয়। তিনি লেখেন, ‘প্রতি বছর রং হাতে নিয়ে এই উৎসব আসে এবং আমাদের একটি চিরন্তন শিক্ষা দিয়ে যায়। রং যখন আমাদের স্পর্শ করে, তখন সে আমাদের নাম, জাত, ভাষা বা ধর্ম জানতে চায় না—বরং সকলকেই সমান ভাবে আপন করে নেয়।’
অভিষেক আরও বলেন, একটি সমাজ তখনই সত্যিকার অর্থে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, যখন প্রতিটি রং সমান মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে। দোলযাত্রা ও হোলির চেতনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সম্প্রীতি রক্ষা করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।
তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই উৎসব যেন মানুষের মধ্যে একসঙ্গে থাকার বিশ্বাস, ন্যায়বোধ এবং সমান অধিকারের চেতনা আরও দৃঢ় করে। একই আকাশের নীচে প্রত্যেক নাগরিক সমান মর্যাদা পাক—এই কামনাই তাঁর বার্তায় প্রতিফলিত হয়েছে।
দোল ও হোলির প্রভাতে দুই শীর্ষ তৃণমূল নেতার এই বার্তায় স্পষ্ট, রঙের উৎসব শুধু আনন্দের নয়, বরং সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবিকতারও প্রতীক। রাজনৈতিক মহলের মতে, উৎসবের সকালে নিজেদের বার্তায় কোনো রাজনীতির কথা না উল্লেখ করলেও এই দুই নেতা আসলে নিশানা করেছেন রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল তথা কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপিকে। কারণ, রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে মমতা এবং অভিষেককে বারবার বিজেপির বিরুদ্ধে বিভেদমূলক ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করার অভিযোগ এনেছেন। তাই রঙের উৎসবকে হাতিয়ার করে তাঁরা বিভেদের রাজনীতি থেকে সরে আসার বার্তা দিয়ে আসলে পদ্ম শিবিরকেই বোঝাতে চেয়েছেন।