‘পথশ্রী’র রাস্তা শুরু হলেও শেষ হওয়ার নাম নেই, তীব্র ক্ষোভ
বর্তমান | ০৪ মার্চ ২০২৬
অভিজিৎ চৌধুরী, চুঁচুড়া: দীর্ঘবছরের বঞ্চনার পরে পথশ্রী প্রকল্পে রাস্তা পাকা হওয়ার অনুমোদন এসেছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সামান্য কাজ হওয়ার পরেই রাস্তার কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ঘটনার জেরে মগরা-১ পঞ্চায়েতের হেদিয়াপোঁতায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ওই ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় শাসক নেতৃত্বের মধ্যেও। কারণ, বিষয়টি কাজে লাগাতে ময়দানে নামার উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে বিরোধীরা। ২০২৪ সালে অনুমোদন হওয়া রাস্তার কাজ শেষ না হওয়ায় ‘পথশ্রী’র মতো প্রকল্প ঘিরে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। তা স্থানীয় প্রশাসন থেকে শাসকদলের জন্যও বিড়ম্বনা তৈরি করেছে।
মগরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রঘুনাথ ভৌমিক বলেন, হেদিয়াপোঁতার ওই রাস্তাটি পথশ্রী প্রকল্পের আওতায় আছে। পঞ্চায়েতের ওই কাজে কোনও ভূমিকা নেই। রাস্তার কাজ বন্ধ হয়ে আছে, তা বাস্তব। এনিয়ে আমি ব্লক প্রশাসনের কাছে বারবার তদ্বির করেছি। কিন্তু কোনও সুবিধা হয়নি। রাস্তা সামান্য হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নাগরিক মহলে বাড়তি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পথশ্রী’র মতো প্রকল্প নিয়ে ওই ডামাডোল খুবই অবাঞ্ছিত। আমি আবরও ওই বিষয়ে কথা বলব। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বশির মল্লিক বলেন, বছরের পর বছর ধরে আমাদের হেদিয়াপোঁতার ওই মাটির রাস্তা ব্যবহার করতে হয়েছে। শেষপর্যন্ত যখন পাকা রাস্তার অনুমোদন মিলল, তখন আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু সেই খুশি স্থায়ী হয়নি। কিছুদিন কাজ করে কিছুটা রাস্তা তৈরির পরে একবছর ধরে রাস্তার কাজ বন্ধ হয়ে আছে। তাতে রাস্তা ব্যবহার করতে বাড়তি সমস্যা তৈরি হয়েছে। ব্লক প্রশাসন থেকে পঞ্চায়েত হেদিয়াপোঁতার মানুষকে অবহেলা করছেন। সেটাই বড় আক্ষেপের। হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। দ্রুত তত্ত্বতলাশ করে পদক্ষেপ করব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মগরা-১ পঞ্চায়েতের হেদিয়াপোঁতার ফুটবল মাঠ থেকে জেলের বিল পর্যন্ত রাস্তাটি এক কিলোমিটারের সামান্য বেশি। বহুবছর ধরে রাস্তাটি মাটির ছিল। ২০২৪ সালে পথশ্রী প্রকল্পে তা পাকা করার অনুমোদন মেলে। এরপর ২০২৫ সালে রাস্তার কাজ শুরু হয়। কিন্তু অভিযোগ, ৩০০মিটার পাকা হওয়ার পরে প্রায় একবছর রাস্তায় একটি ইঁটও পড়েনি। ক্ষুব্ধ নাগরিকদের একাংশ ওই ঘটনায় ভোট বয়কটের মতো সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে। আবার স্থানীয় বিরোধী দলগুলিও নাগরিক ক্ষোভকে কাজে লাগাতে কোমর কষছে।