• ‘ম্যানগ্রোভ আমাদের বন্ধু’, সুন্দরবনে গাছে আবির পড়ুয়াদের
    বর্তমান | ০৪ মার্চ ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: ম্যানগ্রোভের সঙ্গে আবির খেলল স্কুলের শিশুরা। সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভের জঙ্গল শুধুমাত্র জঙ্গল নয়। শ্বাসমূলের সে বনভূমি মানুষের রক্ষাকর্তা। ফলে গাছে-মানুষে সর্বদা অবিচ্ছেদ্য সখ্য। সেই বন্ধুকেই এবার দোলের আগে আবিরে রাঙাল ছাত্র-ছাত্রীরা। ‘রং মাখানোর আদরে চির সবুজ হোক নদীর চরে থাকা ম্যানগ্রোভ। তারা সজীব থাকলেই রক্ষা পাবে ব-দ্বীপ অঞ্চলগুলি।’ সুন্দরবনের মানুষ এই কথাই বলেন।

    সোমবার স্কুল ছুটির পর নামখানার মৌসুনি কো-অপারেটিভ হাই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা আবির নিয়ে পৌঁছে যায় চিনাই নদীর তীরে। তারা নদী তীরের জঙ্গলে ম্যানগ্রোভগুলির ডালপালায় বিভিন্ন রঙের আবির মাখায়। ধীরে রঙিন হয়ে ওঠে জঙ্গল। নদী বাঁধের তখন পথচলতি মানুষের ভিড়। এ দৃশ্য তাঁদের থমকে দাঁড় করিয়ে দেয়। তাঁদের বক্তব্য, ম্যানগ্রোভ কেটে ভেড়ি হচ্ছে। প্রতিনিয়ত নষ্ট করা হচ্ছে জঙ্গল। দেশজুড়ে উন্নয়নের নামে চলছে অরণ্য নিধন। বর্তমান মানুষ বুঝতেই পারছে না পৃথিবীর কি অপূরণীয় ক্ষতি তারা করে চলেছে। এর উল্টো ছবি তুলে ধরে সুন্দরবন। এ বনে গাছ হল মানুষের বন্ধু, পরম আত্মীয়। গুরুপদ জানা নামে স্থানীয় একজন বলেন, ‘এখন সবাই ম্যানগ্রোভ ধ্বংস করতেই ব্যস্ত। কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীরা ম্যানগ্রোভ বাঁচিয়ে রাখার বার্তা দিতে যে কাজ করছে তা প্রশংসার।’ মৌসুনি কো-অপারেটিভ হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী বিপাশা প্রধান বলে, ‘সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ কেটে নদীর পাশে মাছের ভেড়ি তৈরি করা হচ্ছে। কিছু অসাধু মানুষ জ্বালানির নাম করে জঙ্গল থেকে ম্যানগ্রোভ কেটে নিচ্ছে। এভাবে চললে সুন্দরবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। কারণ ম্যানগ্রোভ রয়েছে বলেই সুন্দরবন রয়েছে। তাই ম্যানগ্রোভ বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব প্রত্যেকের। সেই বার্তা দিতেই এই উদ্যোগ।’
  • Link to this news (বর্তমান)