• ১০৪ বছর বয়সেও ভোটার তালিকায় ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় প্রশ্ন
    এই সময় | ০৪ মার্চ ২০২৬
  • পরাধীন ভারতে জন্ম তাঁর। স্বাধীন ভারতের প্রথম নির্বাচন থেকে শুরু করে গত লোকসভা ভোট— প্রতিবারই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে ভোট দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ১০৪ বছর বয়সে এসে নিজের দেশেই ব্রাত্য হওয়ার উপক্রম পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের শেখ ইব্রাহিমের। SIR-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় শতায়ু এই বৃদ্ধকে বিচারাধীন বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু তিনিই নন, তাঁর পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের কপালে জুটেছে একই তকমা। ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁর পরিবারের লোকজন। কমিশনের এমন পদক্ষেপকে ‘অমানবিক’ বলে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা।

    সূত্রের খবর, জামালপুরের প্রত্যন্ত বত্রিশ বিঘা গ্রামের আদি বাসিন্দা শেখ ইব্রাহিম। পরিবারের দাবি, ১৩২৯ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসে তাঁর জন্ম। বর্তমানে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন তিনি। সম্প্রতি রাজ্যে SIR পর্ব শুরু হয়। ২৯ জানুয়ারি ইব্রাহিমকে BDO অফিসে নোটিসও পাঠানো হয়েছিল। সেখানে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা গরমিলের কথা উল্লেখ ছিল। বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হতেই কমিশনের প্রতিনিধিরা বৃদ্ধের বাড়িতে গিয়ে শুনানি পর্ব শেষ করেন।

    সব কিছুর পরেও চূড়ান্ত তালিকায় নাম বিচারাধীন থাকায় ভেঙে পড়েছেন শেখ ইব্রাহিম। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘১০৪ বছর বয়সেও আমি বেঁচে আছি, এটাই কি আমার অপরাধ?’ তাঁর ছেলে জানান, দেশের অতি প্রবীণ নাগরিকের সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত অসম্মানজনক। কমিশনের ভুলে তাঁদের পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। কমিশনের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গ্রামের মানুষও।

    ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলামের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিজেপি-র নির্দেশে চলছে। বিরোধী দলকে বেকায়দায় ফেলতেই বেছে বেছে সংখ্যালঘু পরিবারের প্রবীণদের হেনস্থা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র যাবতীয় দায় রাজ্য সরকারের উপর চাপিয়েছেন। তাঁর দাবি, সরকারি কর্মীরা ঠিকমতো কাজ না করায় এই বিপত্তি ঘটছে।

  • Link to this news (এই সময়)