• নিজের ও ছেলের নাম ‘ডিলিটেড’, অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বৃদ্ধের, পরিবারের দাবি, ‘সমস্ত নথিপত্র জমা দিয়েও..’
    এই সময় | ০৪ মার্চ ২০২৬
  • সোমবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার বাসিন্দা কৃষ্ণ পাল (৬৭)-এর। ভোটার তালিকায় তাঁর এবং ছেলে দীপাঞ্জন পালের নাম 'ডিলিটেড' শোনার পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি স্ত্রী শান্তি পালের। ঘটনার পরেই শোকের ছায়া এলাকায়। বুধবার তাঁর শেষকৃত্যে হাজির ছিলেন ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

    ডেবরা ব্লকের ডেবরা এলাকারই বাসিন্দা কৃষ্ণ পাল। পেশায় কৃষক। আদিবাড়ি বীরভূমে হলেও প্রায় দুই দশক ধরে তিনি ডেবরাতেই থাকেন স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে। আছে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড-সহ সবকিছুই। দীর্ঘদিন ধরে ভোটও দিয়ে আসছেন তাঁরা। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, কৃষ্ণ পাল ও তাঁর ছেলে দীপাঞ্জন পালের নাম আছে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায়। এর পরে শুনানিতে বিডিও অফিসে গিয়ে সমস্ত নথিপত্র জমা দিয়ে আসেন তাঁরা। যদিও, সেই থেকেই কৃষ্ণ দুশ্চিন্তায় ছিলেন বলে দাবি তাঁর স্ত্রী শান্তি পালের।

    শনিবার (২৮ মার্চ) ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যায়, বাবা-ছেলে দু’জনের নামই ‘ডিলিটেড’। অর্থাৎ, বাদ দেওয়া হয়েছে দু’জনের নামই। রবিবার নাগাদ সেকথা জানতে পারার পরই কার্যত নাওয়া-খাওয়া ভুলেছিলেন কৃষ্ণবাবু। সোমবার দুপুরের দিকে হঠাৎই তিনি অসুস্থতা অনুভব করেন। দ্রুত তাঁকে বাইকে চাপিয়ে ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান ছেলে দীপাঞ্জন। সন্ধ্যা নাগাদ অবস্থার অবনতি হলে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে রেফার করেন চিকিৎসকেরা। তবে, তার আগেই মৃত্যু হয়।

    মঙ্গলবার শেষকৃত্যে গিয়েছিলেন ডেবরা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা ব্লক তৃণমূলের সভাপতি প্রদীপ কর-সহ অন্যান্যরা। মৃতের স্ত্রী শান্তি দেবী জানান, তাঁর নাম তালিকায় আছে। তবে স্বামী ও ছেলের নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে। অথচ, বিডিও অফিসে সমস্ত কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। তিন-চার ধরে যেতে হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘প্রথমে খুব চিন্তা করলেও, কাগজ জমা দেওয়ার পর কিছুটা দুশ্চিন্তা কেটেছিল। তারপর নাম বাদ গিয়েছে শুনেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সুস্থ সবল মানুষটা সোমবার হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ডাক্তারবাবুরা অনেক চেষ্টা করেছিল। কিন্তু, বাঁচানো গেল না।' ছেলে দীপাঞ্জন বলেন, ‘মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ নিয়ে যাওয়ার আগেই বাবার মৃত্যু হয়। দুশ্চিন্তাতেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায়।’

    বুধবার দুপুর মৃতের বাড়িতে যান ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর, পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শীতেশ ধাড়া প্রমুখ। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তাঁরা। হুমায়ুন বলেন, ‘নাম বাদ গেলে, সরকারি সমস্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। এই দুশ্চিন্তাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। এর দায় নির্বাচন কমিশনের।’ যদিও, বিজেপির জেলা সভাপতি তন্ময় দাস বলেন, ‘যে কোনও মৃত্যুই দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু, তৃণমূল মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করতে ব্যস্ত। ওঁর বয়স হয়েছিল। আমরা পরিবারের পাশে আছি।' ডেবরার বিডিও প্রিয়ব্রত রাঢ়ি বলেন, 'বিষয়টি শুনেছি। কেন ওঁদের নাম 'ডিলিটেড' হয়ে গিয়েছে, বৃহস্পতিবার অফিস খুললে তা খতিয়ে দেখব।’

  • Link to this news (এই সময়)