৮৫ মুসলিম-প্রধান আসন: কংগ্রেস-বাম ঘাঁটি থেকে তৃণমূলের ঝড়, এবার সমীকরণ কোন দিকে?
আজ তক | ০৫ মার্চ ২০২৬
West Bengal Election 2026: মুসলিম-প্রধান আসনগুলিতে কার প্রভাব বেশি? ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে সেই প্রশ্নই ভাবাচ্ছে অনেককে। ২০২১ সালে এই অঞ্চলগুলিতে রীতিমতো ঝড় তুলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস(All India Trinamool Congress)। কিন্তু ইতিহাস বলছে, এই ৮৫টি আসন কোনওদিনই কোনও নির্দিষ্ট দলের দখলে ছিল না। বদলেছে সমীকরণ, পাল্টেছে ভোটের মেরুকরণ।
কোন কোন জেলায় এই ৮৫ আসন?
মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুর, বীরভূম ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা; এই পাঁচ জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে ৮৫টি মুসলিম-প্রধান বিধানসভা কেন্দ্র। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৬৬.৩ শতাংশ, মালদহে ৫১.৩ শতাংশ, উত্তর দিনাজপুরে ৪৯.৯ শতাংশ, বীরভূমে ৩৭.১ শতাংশ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩৫.৬ শতাংশ। রাজ্যের গড়ের তুলনায় যা অনেক বেশি। ফলে নির্বাচনী সমীকরণে এই আসনগুলির গুরুত্ব স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
২০১১: কংগ্রেস-সিপিএমের দাপট
২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই অঞ্চল ছিল মূলত Indian National Congress ও Communist Party of India (Marxist) নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের ঘাঁটি। ৮৫টির মধ্যে তৃণমূল পেয়েছিল ৩৬টি আসন। মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস জেতে ১৪টি আসন, বামফ্রন্ট পায় ৬টি। তৃণমূলের দখলে ছিল মাত্র একটি। মালদাতেও অনুরূপ ছবি। কংগ্রেস ৮, বামফ্রন্ট ৬, তৃণমূল মাত্র ১। উত্তর দিনাজপুরে কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট সমানতালে লড়েছিল। সে সময় এই অঞ্চলগুলিতে Bharatiya Janata Party-র উপস্থিতি কার্যত শূন্য ছিল।
২০১৬: পাল্টাতে শুরু করল সমীকরণ
২০১৬ সালে ছবিটা বদলাতে শুরু করে। তৃণমূলের প্রভাব বাড়ে। মুর্শিদাবাদে তাদের আসন বেড়ে হয় ৪। বিজেপি প্রথমবারের মতো মুসলিম-প্রধান এলাকায় একটি আসনে জেতে। মোটের উপর তৃণমূল পৌঁছে যায় ৪৬ আসনে, কংগ্রেস-বাম জোট সঙ্কুচিত হয় ৩৮-এ।
২০২১: প্রায় ‘ক্লিন সুইপ’
২০২১ সালের নির্বাচন এই অঞ্চলে কার্যত একতরফাভাবে জেতে TMC। ৮৫টির মধ্যে ৭৫টি আসন যায় তৃণমূলের ঝুলিতে। মুর্শিদাবাদের ২২টির মধ্যে ২০টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টির মধ্যে ৩০টি আসনে জয় পায় তারা। বিজেপি কয়েকটি আসনে লড়াই জমালেও কংগ্রেস-বাম কার্যত শূন্যে নেমে আসে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম ভোটের বড় অংশ তৃণমূলের দিকে একজোট হওয়াই এই ফলাফলের মূল কারণ।
২০২৬: কী ইঙ্গিত দিচ্ছে পরিসংখ্যান?
কোন আসনে নজর বেশি, সেই প্রসঙ্গে তৃণমূলের দেবাংশু ভট্টাচার্যের মতে, 'সব আসনেই আমাদের নজর সমান। কোনও একটি আসন আলাদা করে নয়। সার্বিকভাবে রাজ্যজুড়ে জয়ই লক্ষ্য।' অন্যদিকে বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি রাহুল সিনহাও একই কথা বলছেন। তাঁর মতেও বিজেপি প্রতিটি আসনে সমান জোর দিচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় ইস্যু, সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রকল্প, কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত; সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে নতুন করে সমীকরণ গড়ে উঠতে পারে। বিজেপি ইতিমধ্যেই এই অঞ্চলগুলিতে সাংগঠনিক জোর বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কংগ্রেস-বামও পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সক্রিয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ৮৫ আসনের ফলাফলে রাজ্যের সামগ্রিক ক্ষমতার অঙ্কে প্রভাব পড়তে পারে। মুসলিম ভোট কোন দিকে যায়, সেটাই হতে পারে নির্ণায়ক ফ্যাক্টর। অতীতের পরিসংখ্যান বলছে, সমীকরণ বদলাতে সময় লাগে না। ফলে ২০২৬-এ মুসলিম-প্রধান আসনগুলিই হতে চলেছে বঙ্গ রাজনীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষাক্ষেত্র।