পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) পরিবর্তনের স্লোগান তুলে রথযাত্রা শুরু করেছে BJP। যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য উত্তরপ্রদেশের লখনৌ (Lucknow) থেকে এসেছে বিশেষ রথ (Chariot)। বুধবার কোচবিহারের মহিষবাথানে সেই রথেই ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূল (TMC) আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরেই পুন্ডিবাড়িতে পথ অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ BJP কর্মী-সমর্থকরা। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
গত রবিবার কোচবিহারের রাসমেলা মাঠে পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করেছিলেন BJP-র সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। বৃহস্পতিবার শীতলখুচিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতিন প্রসাদের সভা থেকে তা পুরোদমে চালু হওয়ার কথা। তার জন্য তিন দিন আগেই লখনৌ থেকে এসেছে বিশেষ রথ। এদিন কোচবিহারের জেলা কার্যালয় থেকে সেটিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল পুন্ডিবাড়ি। পরিকল্পনা ছিল, রাতে সেখানেই রাখা থাকবে রথ। সকালে নিয়ে যাওয়া হবে শীতলখুচি।
সেই মতো এ দিন সন্ধ্যায় বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা রথ নিয়ে যাচ্ছিলেন পুন্ডিবাড়ি। অভিযোগ, মহিষবাথানের কাছে রথ আটকায় একদল দুষ্কৃতী। একটি গাড়ি থেকে সাত-আট জন নেমে হামলা চালায়। ব্যাপক ভাঙচুর করে রথে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই কোচবিহারে উত্তেজনা ছড়ায়। পুন্ডিবাড়িতে পথ অবরোধ করেন কয়েক জন বিজেপি কর্মী-সমর্থক। তবে পুলিশ এসে অবরোধ তুলে দেয়। রথটিও কোচবিহারের বিজেপি কার্যালয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এই ঘটনায় সরাসরি তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলেছেন বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা কোচবিহার উত্তরের বিধায়ক সুকুমার রায়। তাঁর অভিযোগ, ‘তৃণমূল নেতা সায়নদীপ গোস্বামীর নেতৃত্বে রথে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। আগামী কাল এই পথ দিয়েই রথ নিয়ে যাব আমরা। দেখব রথ কে আটকায়!’
তবে বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। তাঁর কথায়, ‘বিধানসভা ভোটের আগে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। তা থেকে নজর ঘোরাতেই এখন রথযাত্রার নাটক করছে বিজেপি। এতে কোনও লাভ হবে না।’