• ‘আমি ভালো আছি…’, মাকে বলেছিলেন পুলক, কল্যাণীর JNM হাসপাতালে পড়ুয়ার মৃত্যুতে উত্তর নেই একাধিক প্রশ্নের
    এই সময় | ০৫ মার্চ ২০২৬
  • বৃহস্পতিবার ছিল চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা। একটা ধাপ পার হলেই জুনিয়র ডাক্তার হওয়ার হাতছানি ছিল পুলক হালদারের সামনে। তবে সেটা স্বপ্নই থেকে গেল। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কল্যাণী কলেজ অফ মেডিসিন ও জেএনএম হাসপাতালে হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয় তাঁর পচাগলা দেহ। পড়ুয়ার মায়ের দাবি, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন পুলক। প্রাথমিক তদন্তে পরে পুলিশ জানিয়েছে, পুলকের আত্মহত্যা করার সম্ভাবনাই প্রবল। কিন্তু কী এমন হলো যাতে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিতে হলো পুলককে? ময়ান্তদন্তের পুরো রিপোর্ট হাতে এলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। যদিও হস্টেলে ঘরবন্দি অবস্থায় পুলকের মৃত্যু একাধিক প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে।

    ২৬ ফেব্রুয়ারি বেলার দিকে উদ্ধার হয় পুলকের মৃতদেহ। হস্টেলের ঘরের ভিতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পুলকের দেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহের পচন শুরু হয়েছিল। ২০ ফেব্রুয়ারি শেষবার পুলককে দেখেছিলেন সহপাঠীরা। মৃত্যুর আগে কয়েকদিন ঘরবন্দি হয়ে ছিলেন পুলক।

    প্রশ্ন উঠেছে, পুলককে যখন তিন-চারদিন ধরে দেখা যায়নি, তখন কেউ খোঁজ নিলেন না কেন? কেউ তাঁর বাড়িতে খোঁজখবর নেননি কেন? প্রশ্ন উঠছে হস্টেল কর্তৃপক্ষ কোথায় ছিলেন? একজন ছাত্র এতদিন ক্লাসে উপস্থিত নেই, নিয়মিত হস্টেল চেকিংয়ের ব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটের ছেলে পুলক কি মানসিক অবসাদে ছিলেন? মৃত পড়ুয়ার মায়ের দাবি, ‘ছেলে যখন ফোনে শেষ ২৪ মিনিট আমার সঙ্গে কথা বলে তখনও ছেলের মধ্যে কোনও অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করিনি। শুধু একটা কথাই বলেছে আমি ভালো আছি, তোমরা ভালো থেকো।’

    পুলকের মৃত্যুর পরে তাঁর সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে কল্যাণী থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক জানান, ময়নাতদন্তের আর একটি রিপোর্ট বাকি আছে। সেটি হাতে না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।

  • Link to this news (এই সময়)