পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দাপট যত বাড়ছে। ভারতে জ্বালানি জোগানে সঙ্কট হওয়ার আশঙ্কা তত বাড়ছে। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে কার্যত বন্ধ তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কারের যাতায়াত। তার ফলে গোটা বিশ্বের তথা এশিয়ার জ্বালানির সরবরাহে ধাক্কা লেগেছে। ভারতের জ্বালানির বড় অংশ আসে হরমুজ় প্রণালী হয়ে। ফলে ভারতের কপালেও চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। যদিও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে ভারতে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত ভাঁড়ার রয়েছে। অন্য উৎস থেকে জ্বালানি নেওয়ার কাজও চলছে বলে জানানো হয়েছে। এই মুহূর্তে দেশে জ্বালানির কোনও সঙ্কট নেই বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবুও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সেই ছবি দেখা গেল নদিয়ার চাপড়ায়।
ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের সঙ্কট দেখা যাবে, তেলের দাম লাফিয়ে বাড়বে। এমন নানা বিষয় নিয়ে আতঙ্কের কারণে তুমুল চাহিদা বেড়েছে পেট্রলের। চাপড়ায় একাধিক পেট্রল পাম্পে বুধবার সকাল থেকে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে। একদিকে গাড়ি-বাইকের তেল মজুত করার লক্ষ্যে লাইন দিয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরাও। ডিজেলে টান পড়লে কৃষিকাজে সমস্যা হবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তেল না হলে পাম্পের মেশিন থেকে শুরু করে ট্রাক্টর, জেনারেটর চলবে না বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। এই কারণেই পেট্রল পাম্পে লাইনে দেখা গেল তাঁদেরও।
এখন প্রায় সব মাঠেই ধান চাষ হচ্ছে। জল যদি না পাওয়া যায় ধান চাষ নষ্ট হবে। জল পাওয়ার জন্য পাম্প চালাতে লাগবে। সেই কাজের জন্য দরকার তেলের। স্থানীয় বাসিন্দা সাহেব আলি শেখ বললেন, ‘শুনছি যুদ্ধ লেগে থাকলে শর্ট পড়বে। চাষবাস আছে। তেল না হলে হবে না। ঘণ্টাখানেক ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি তেল কিনব বলে।’ তেল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন ধান চাষি বরকত শেখ। টোটো ও একাধিক জেরিকেন নিয়ে তেল নিতে এসেছেন তিনি। সকাল থেকে একাধিক পেট্রল পাম্পে ঘুরেছেন।