• গোটা ফ্ল্যাট থরথর করে কাঁপছিল, সবাই দৌড়ে নীচে নামলাম, মাত্র ২ কিলোমিটার দূরেই মিসাইল হামলা-বিস্ফোরণ
    বর্তমান | ০৪ মার্চ ২০২৬
  • এণাক্ষী গুহ মণ্ডল, বাহরিন: বিগত কয়েকদিন ধরেই মোবাইলে লাগাতার সুরক্ষা অ্যালার্ট আসছিল। কিন্তু আচমকাই যে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হয়ে যাবে, তা কল্পনাও করতে পারিনি। আমাদের অ্যাপার্টমেন্টের দু’কিলোমিটারের মধ্যেই ইউএস নাভাল বেস। শনিবার প্রথম যখন মিসাইল পড়ল ওখানে, তখন বুঝতে পারা গেল যে অবস্থা কত গুরুতর। প্রথম মিসাইল হানার পরবর্তী দু’তিন মিনিটের মধ্যে ফের একই জায়গায় বিস্ফোরণ। এর তীব্রতা এতটাই যে, সাত তলায় আমাদের ফ্ল্যাট তখন থরথর করে কাঁপছে। মনে হচ্ছে যেন, মুহূর্তের মধ্যে গোটা বিল্ডিংই ধসে যাবে। আমার স্বামী সেইসময় অফিসে। দু’বছরের ছেলেকে নিয়ে আমি রয়েছি ফ্ল্যাটে। কিছুক্ষণের জন্য যেন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গিয়েছিলাম। পরমুহূর্তেই খেয়াল হল, প্রাণ বাঁচাতে হবে। আমার সঙ্গে যে একরত্তি রয়েছে, তার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সকলের আগে। স্বামীকে মেসেজ পাঠাতে পাঠাতেই নীচে নেমে এলাম। ততক্ষণে গোটা আবাসনের বাসিন্দারা নেমে এসেছেন। ভয়ে দৌড়াদৌড়ি করছেন। কোথায় যেতে হবে, স্থির করে নিয়েছি। ২০/২৫ কিলোমিটার দূরে আমার এক মালয়ালম বন্ধু রয়েছে। ওদিকে সেভাবে কোনো বিপদ আপাতত নেই। ফলে বিগত দু’তিন দিন ধরে সপরিবারে আমাদের ঠিকানা ওর বাড়িই।

    আমার বাড়ি উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে। শ্বশুরবাড়ি নৈহাটিতে। সেভাবে দেখলে কমবেশি দু’টোই মফঃস্বল শহর। স্বাভাবিকভাবেই এমন অভিজ্ঞতা ছোটবেলায় কারও হয়নি। আমি বাহরিনে রয়েছি প্রায় আট বছর। এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন কখনো হয়নি। তাই নার্ভাস লাগছে যথেষ্টই।

    আরও ভয়ের ব্যাপার হল এই যে, ইউএস নাভাল অফিসাররা এই দ্বীপরাষ্ট্রের যেসব এলাকা কিংবা আবাসনে থাকেন, বেছে বেছে সেগুলোকেও টার্গেট করা হচ্ছে। এমনকি রাতের অন্ধকারে হামলা চালানো হচ্ছে। মিসাইল ইন্টারসেপ্ট করা হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু তাতে ভয় তো কমছে না। কারণ ওইসব এলাকা কিংবা আবাসনে শুধুমাত্র যে ইউএস নাভাল অফিসাররা থাকেন, তা তো নয়। সাধারণ মানুষও থাকেন। ক্ষতি হলে প্রত্যেকের হবে। খামেনেইকে হত্যার প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই এখানে বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে ইভাকুয়েশনের প্ল্যান আমাদের নেই। তবে প্রতি মুহূর্তে দূতাবাসের আপডেটের দিকে নজর রাখছি।
  • Link to this news (বর্তমান)