এই সময়, নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা–ইজ়রায়েল বনাম ইরানের সামরিক সংঘর্ষের জেরে ভারতবাসীর জীবন ধারণের রসদে যাতে সঙ্কট তৈরি না–হয়, তার জন্য একরকম কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়ল দিল্লি। কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ক্যাবিনেট সচিবালয়ের মাধ্যমে প্রতিটি মন্ত্রককে ‘কনটিনজেন্সি প্ল্যান’ তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷
বিশেষ করে, বিভিন্ন রাজ্যের রেশন বণ্টন ব্যবস্থায় যাতে কোনও রকম সমস্যা না–হয়, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার উদ্যোগী হয়েছে। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রক দেশের সব ক’টি রাজ্যের খাদ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে একলপ্তে তিন মাসের চাল-গম আগাম তুলে নিয়ে রেশন ডিলারদের কাছে পৌঁছে দিতে বলেছে। এমনিতে রীতি হলো, এক মাসের চাল–গম আগাম তুলে রাখা। সেই জায়গায় তিন মাসের চাল–গম তুলে রাখতে বলায় এখনকার পরিস্থিতিতে স্বভাবতই প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অনেকের মধ্যে।
সরকারি ভাবে এর কোনও ব্যাখ্যা না–দেওয়া হলেও একটি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, সরকারি গোডাউন খালি করার লক্ষ্যেই এই নির্দেশ। পাল্টা প্রশ্ন উঠেছে, এতদিন কখনও তো সরকারি গোডাউন খালি করতে এ রকম নির্দেশ দেওয়া হয়নি? সরকারেরই অন্য একটি সূত্রের বক্তব্য, পরিবহণ জ্বালানির সঙ্কট তৈরি হলে রেশনের চাল–গম ডিলারদের কাছে পৌঁছে দিতে সমস্যা হবে, গণ–বণ্টন ব্যবস্থা সে ক্ষেত্রে ঘেঁটে যাওয়ার আশঙ্কা এবং তা হলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ সামাল দেওয়া মুশকিল হবে। তার জন্যই আগেভাগে তিন মাসের চাল–গম তুলে নিতে প্রতিটি রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।
ইরানের বিরুদ্ধে ইউএসএ–ইজ়রায়েলের যুদ্ধের জেরে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে ভারতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ ওই তেল আসার যে জলপথ, সেই হরমুজ় প্রণালী এখন আটকে দিয়েছে ইরান। সংখ্যায় বেশ কয়েকশো, বিশাল বিশাল তেলের ট্যাঙ্কার এই অবস্থায় ওখানে অবরুদ্ধ৷ ফলে, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পৌঁছনো আপাতত সম্ভব নয়।
যদিও কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর দাবি, ‘ভারতে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে৷ (বর্তমান) পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারত পুরোপুরি প্রস্তুত৷’ পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রের খবর, মাস দেড়েক চালিয়ে নেওয়ার জ্বালানি তেলের স্টক ভারতের কাছে রয়েছে৷ কিন্তু তার মধ্যেও পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না–হলে? হরমুজ় প্রণালী তখনও বন্ধ থাকলে? সেটা মাথায় রেখেই একসঙ্গে তিন মাসের চাল–গম তুলে রাখতে রাজ্যগুলোকে কেন্দ্র নির্দেশ দিয়েছে বলে সরকারি সূত্রের দাবি। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রের খবর, বিকল্প রুট দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে আসার বিষয়ে কথা অনেক দূর এগিয়েছে৷
এই যুদ্ধের আবহে যাতে ভারতের মাটিতে হঠাত্ কোনও আতঙ্কের বা অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি না–হয়, সেটা নিশ্চিত করাও কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য। দিল্লিতে সরকারি সূত্রের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষের অবস্থা যদি আরও খারাপ চেহারা নেয়, সে কথা মাথায় রেখেই প্রতিটি মন্ত্রককে ‘কনটিনজেন্সি প্ল্যান’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষের গতিপ্রকৃতির দিকে নিরন্তর লক্ষ্য রেখে এ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে কী ধরনের সংবাদ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে, সে দিকে কড়া নজর রাখতে হবে। ক্যাবিনেট সচিবালয় থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষতি করতে পারে, এমন কোনও রকম উস্কানিমূলক ছবি বা খবর প্রচার হওয়া মাত্র তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারি সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের উদ্যোগেই ক্যাবিনেট সচিবালয় কড়া পদক্ষেপ করেছে।