• রোজ ভোরের ফোন আর এল না, বেঙ্গালুরুতে মৃত পুরুলিয়ার যুবক
    এই সময় | ০৫ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, পুরুলিয়া: ফের ভিন রাজ্যে মৃত্যু হলো এক পরিযায়ী শ্রমিকের। মৃত অনাদি মাহাতো (৩৫) নামে ওই যুবকের বাড়ি পুরুলিয়ার কোটশিলা থানার খৈরী গ্রামে। তিনি কর্নাটকের বেঙ্গালুরুর ভাতুরা থানা এলাকায় একটি সংস্থায় রাঁধুনির কাজ করতেন।

    গত ছয়-সাত বছর ধরে অনাদি বেঙ্গালুরুতে কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিন ভোর চারটে নাগাদ উঠে রান্নার কাজ শুরু করতেন। তার আগে নিয়ম করে স্ত্রী প্রীতিলতা মাহাতোকে ফোন করতেন। সেটাই ছিল রোজকার অভ্যাস। প্রীতিলতার কথায়, ‘ভোররাতে ওর ফোনেই আমার ঘুম ভাঙত। মঙ্গলবারও ফোনের অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে ফোন না–আসায় আমিই ফোন করি। অন্য একজন ফোন ধরেন। আমার পরিচয় জানতে পেরে ওই ব্যক্তি জানান, রাতে আমার স্বামীর হঠাৎ শরীর খারাপ হয়েছিল। তার পরে ওর মৃত্যু হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, আগের দিন রাত ১১টার পরেও তাঁর সঙ্গে অনাদির কথা হয়েছিল। তখন শরীর খারাপের কোনও ইঙ্গিত দেননি তিনি। অনাদির শ্যালক চিত্তরঞ্জন মাহাতো বলেন, ‘শুনেছি জামাইবাবুকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু ঠিক কীভাবে মৃত্যু হলো, তা এখনও স্পষ্ট নয়।’

    মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছতেই মঙ্গলবার সেখানে যান পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাতো, শ্রমিক নেতা উজ্জ্বল কুমার। তাঁদের দাবি, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) দেহ গ্রামে ফেরানোর বিষয়ে নজর রাখছেন।

    ময়নাতদন্তের পরে বুধবার দুপুরে অনাদির কফিনবন্দি দেহ বিমানে রাঁচি হয়ে গ্রামে ফেরানোর কথা ছিল। তবে অনাদির শ্যালক চিত্তরঞ্জন মাহাতোর অভিযোগ, বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে জানা যায় শুধু কফিনেরই টিকিট কাটা হয়েছে, সঙ্গে কারও টিকিট নেই। ফলে কেউ দেহের সঙ্গে আসতে পারতেন না। অনাদির খুড়তুতো ভাই দীনেশ মাহাতো বলেন, ‘সঙ্গে কেউ না এলে দেহ আনা সম্ভব নয়। বিষয়টি আমরা নেপাল মাহাতোকে জানাই।’

    বাঘমুন্ডির প্রাক্তন বিধায়ক তথা জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো জানান, স্থানীয় থানার মাধ্যমে যে সংস্থায় অনাদি কাজ করতেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাকি দু’জনের বিমানের টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়। সেই সংস্থাই দেহের পাশাপাশি তাঁদের টিকিটের খরচ বহন করে। তবে দেরি হয়ে যাওয়ায় বুধবার দেহ গ্রামে আনা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার দেহ ফেরার কথা।

    অনাদির ছয় বছরের মেয়ে রুবি ও তিন বছরের ছেলে ভুবন। স্বামীর মৃত্যুর পরে দুই সন্তানকে কীভাবে মানুষ করবেন, তা নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন প্রীতিলতা। তাঁর কথায়, ‘আমার স্বামীই ছিল পরিবারের একমাত্র রোজগেরে মানুষ।’ শান্তিরাম মাহাতো বলেন, ‘পরিবারটি যাতে রাজ্য সরকারের সহায়তা পায়, তা আমরা দেখব।’

    জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার কেন্দ্রীয় সভাপতি অশোক মাহাতো বলেন, ‘অন্য রাজ্যে পুরুলিয়ার আর এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিবারটি যাতে সরকারি সহায়তা পায়, সে জন্য দুই রাজ্য সরকারকেই চিঠি দেওয়া হবে।’

    অন্য দিকে নেপাল মাহাতোর দাবি, ‘বরাবাজারের বাঁধডি গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতোর মৃত্যুর পরে এখানে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তিনি রাজ্য সরকারের কাছে মৃতের পরিবারের একজনের চাকরির সুপারিশ করবেন। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে আমাদের অনুরোধ, দু’সপ্তাহের ব্যবধানে কোটশিলা থানা এলাকার বাসিন্দা দুই পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের স্ত্রীরা যাতে কোনও একটা চাকরি পান সেই দাবি তুলুন।’

  • Link to this news (এই সময়)