• চূড়ান্ত লিস্ট নিয়ে আতঙ্কে ফের ৩ মৃত্যু! শুক্রবারে ধর্নায় তৃণমূলনেত্রী
    এই সময় | ০৫ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিচারাধীন বা ‘অান্ডার অ্যাজুডিকেশন’ হিসেবে ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘ডিলিট’ করা হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ভোটারের নাম। তৃণমূলের দাবি, চূড়ান্ত লিস্ট প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে আতঙ্কের জেরে বুধবার পর্যন্ত রাজ্যে অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এক জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চূড়ান্ত তালিকায় ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিমের বাসিন্দা রফিক আলি গাজির গলায় ফাঁস লাগানো দেহ মঙ্গলবার রাতে পুলিশ উদ্ধার করেছে। আবার ‘অ্যাজুডিকেশন’ তালিকায় থাকা পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার বাসিন্দা কৃষ্ণ পাল মঙ্গলবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের বাবুবাজারে প্রিয়াঙ্কা চট্টোপাধ্যায় (৪৮) নামে আরও এক জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের। চূড়ান্ত তালিকায় প্রিয়াঙ্কার নাম ‘ডিলিটেড’ তালিকায় ছিল।

    চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেও যে ভাবে অনেকে ভয় ও উদ্বেগের জেরে অসুস্থ হচ্ছেন বা মারা যাচ্ছেন, তা নিয়ে ফের সরব হলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। বাংলায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (এসআইআর বা সার) গোড়া থেকেই মৃত্যুর মিছিল শুরু হওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নেতৃত্বে জোড়াফুল শিবির বারবার নিশানা করেছে দেশের নির্বাচন কমিশনকে (ইসি)। চূড়ান্ত লিস্ট প্রকাশের পরেও সেই মৃত্যুর মিছিল চলতে থাকায় নতুন করে প্রতিবাদী হচ্ছেন তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। আগামিকাল, শুক্রবার মমতার নেতৃত্বে তৃণমূল ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসছে। রবিবার এই ধর্না কর্মসূচির কথা জানিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকেই ‘সার’ নিয়ে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন তৃণমূলনেত্রী।

    এর আগে উত্তর কুসুম গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোলা নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিক আলির মৃত্যুর খবর পেয়ে বুধবার মগরাহাটের জোড়াফুল নেতা শামিম আহমেদের নেতৃত্বে বড় প্রতিবাদ মিছিল করে তৃণমূল। মৃতদেহের ময়নাতদন্তের পরে রফিকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে দুষে এ দিন বেলা ২টো নাগাদ উস্তি মোড়ে রাস্তার উপরে মৃতদেহ রেখে সিরাকোল-উস্তি এবং উস্তি-হটুগঞ্জ ও উস্তি দোস্তিপুর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের নেতা–কর্মীরা। মৃতের পরিবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দায়ের করেছে। ডেবরায় মৃত কৃষ্ণ পালের বাড়িতে যান সংশ্লিষ্ট ব্লকের তৃণমূল নেতৃত্ব। জোড়াফুলের অভিযোগ, কমিশন যে ভাবে ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ বলে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের বড় অংশ আতঙ্কে রয়েছেন।

    এই আবহে মেট্রো চ্যানেলে মমতার ধর্না কর্মসূচির জন্য মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। মেট্রো চ্যানেলে হেয়ার স্ট্রিট থানার যে আউটপোস্ট রয়েছে, তার সামনেই মূল মঞ্চ তৈরি হচ্ছে। মমতার এই ধর্না কর্মসূচি নিয়ে তৃণমূল বুধবার দু’টি প্রচার ভিডিয়ো রিলিজ় করেছে। একটি ভিডিয়োর ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে, ‘নাগরিকদের ভোটাধিকার, এই আমাদের অঙ্গীকার।’ অন্য ভিডিয়োয় মমতা–অভিষেকের নেতৃত্বে গত বছর রেড রোড থেকে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত তৃণমূলের যে প্রতিবাদ মিছিল হয়েছিল, তার ভিজ়ুয়াল রয়েছে। এই ভিডিয়োর মূল বার্তা হলো, ‘বাংলায় এসআইআর এর নামে গণতন্ত্র হত্যার নির্লজ্জ প্রয়াস চালানো হচ্ছে।’

    সিঙ্গুর আন্দোলনের সময়ে এই মেট্রো চ্যানেলেই অনশন কর্মসূচি চালিয়েছিলেন মমতা। তৃণমূলের নেতাদের বক্তব্য, দলের প্রথম সারির নেতা–মন্ত্রী–সাংসদরা শুক্রবারের ধর্না কর্মসূচিতে থাকবেন। কলকাতা–সহ পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে তৃণমূলের েনতা–কর্মীরা আসবেন। জোড়াফুলের এই ধর্না কর্মসূচি নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘গণতন্ত্রে যে কোনও ব্যক্তি ধর্নায় বসতে পারেন। কিন্তু ওঁর সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া কিংবা ধর্নায় বসার অর্থ কী? উনি সাংবিধানিক সংস্থার উপরে চাপ তৈরি করতে চাইছেন। এটা নির্বাচন কমিশনের ভাবার বিষয়। উনি কী করবেন, তা নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। আমাদের স্পষ্ট কথা, শুনানি (সার) সম্পূর্ণ শেষ না করে নির্বাচন করা যাবে না।’ জবাবে তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের স্বার্থে চিরকাল রাজপথে নেমেছেন। বিজেপি নেতারা এসি রুমে বসে থাকেন। বাঙালির নাম যখন ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, তখন একমাত্র মমতাই প্রতিবাদ করেন। মেট্রো চ্যানেলের ধর্না মঞ্চ থেকেও তিনি প্রতিবাদী হবেন।’

    চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ থাকার প্রতিবাদে বুধবার সিইও দপ্তরের কাছ বিক্ষোভ সমাবেশ করে বামেরা। বিমান বসু, মহম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে বড় মিছিল যায় সিইও অফিসের সামনে। সেলিম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নির্যাতন কমিশন হয়েছে। আরএসএস–বিজেপির পরিকল্পনামাফিক ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন মানুষকে নির্যাতন করছে। একটিও বিচারাধীন কেস রাখা যাবে না, কাউকে ডি–ভোটার করা যাবে না।’ নির্বাচন কমিশনের পিছনে গেরুয়া শিবির কলকাঠি নাড়ছে বলে বামেরা অভিযোগ করায় শমীক পাল্টা বলেছেন, ‘জ্যোতি বসু নিজে অনুপ্রবেশের সমালোচনা করেছিলেন। বামেরা সিইও অফিসে না গিয়ে বরং মুর্শিদাবাদ, মালদায় যান।’

  • Link to this news (এই সময়)